• শুক্রবার ৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম


    সব বাবাই বাবা হতে পারে না !

    লেখকঃ নাহিদা নেহা | ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ৭:০৭ অপরাহ্ণ

    সব বাবাই বাবা হতে পারে না !

    বাবা! শব্দটা অনেকের কাছেই খুবই প্রিয় একটা শব্দ। যার মধ্যে প্রকাশ পায় ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ভরসা, অনুপ্রেরণা, নিরাপত্তা এমনি আরো অনেক কিছু।

     

    একটা সন্তান জন্মের পর থেকে তার সমস্ত আবদার সাধারণত বাবার কাছেই করে থাকে।সন্তানের কখন কি লাগবে, কোনটাতে ভালো হবে, কোনটাতে মন্দ হবে প্রতিটা বিষয়ে বাবা খুব নিখুঁতভাবে খেয়াল রাখে।


    কিন্তু এর বাইরেও অনেক কিছু আছে যা একজন মানুষকে অবাক করে দিতে পারে।আমাদের এই পৃথিবীতে এমনও কিছু বাবা আছেন শুধু সন্তান জন্মদানে ভূমিকা পালন করাই তাদের কাজ। সন্তান জন্মের পর থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত বয়সে পৌছানো পর্যন্ত কোনো দায়িত্বই যদি পালন না করা যায় তবে সে কিসের বাবা।আর যদি সেই সন্তান হয় কন্যা।

     


    আমাদের দেশ ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে ঠিকই।কিন্তু এখনও এই দেশে মেয়েদের নিজে সৎভাবে আয় করে পুরো সংসারের দায়িত্ব নিয়ে সংসার চালানো মুখের কথা নয়।আর সেটাও আবার স্কুল জীবন থেকে।

    যেই বয়সে হেসে-খেলে, নেচে-গেয়ে বেড়ানোর কথা।সেই বয়সে যদি একটা মেয়েকে তার পরিবার চালানোর কথা ভাবতে হয় বাবা বেচে থাকা সত্ত্বেও তাহলে মেয়েটার ভবিষ্যৎ কি!


    স্কুল জীবন চলাকালীন সময়ে যদি একটা মেয়েকে চিন্তা করতে হয় কিভাবে আয় করবো, কোন উপায়ে আয় করবো, মাস গেলে পরিবারে যেই পরিমাণ অর্থের দরকার হয় তা কিভাবে যোগাড় করবো তাহলে এসব ভাবতে গিয়ে সেই মেয়েটা তার জীবনের বাকি কাজগুলো করবে কিভাবে!

     

    আমাদের সমাজে এখনও মেয়েদের অনেক বাধা বিপত্তি আছে।অনেক বিধিনিষেধ আছে।অথচ সংসারের দায়িত্ব নিয়ে একটা মেয়েকে যখন কাজের জন্য বাইরে যেতে হয় তখন এখানে বাবার দোষটা এই সমাজের চোখে পড়ে না।

    এমনি কিছু মেয়ে আছে যারা সংসারের জন্য ভাবতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা কখনো চিন্তাই করে না।

    পড়াশোনার পাশাপাশি হয়তো টিউশন এর মাধ্যমে অথবা পার্ট টাইম কোনো জবের মাধ্যমে আয় করে সংসার চালানোর কথা চিন্তা করে। কিন্তু পরিপূর্ণ ভাবে একটা সংসার চালানো খুব একটা সহজ হয়ে ওঠে না। বিভিন্নভাবে হিমশিম খেয়ে যেতে হয়।

     

    পড়াশোনার পাশাপাশি হয়তো টিউশন এর মাধ্যমে অথবা পার্ট টাইম কোনো জবের মাধ্যমে আয় করে সংসার চালানোর কথা চিন্তা করে। কিন্তু পরিপূর্ণ ভাবে একটা সংসার চালানো খুব একটা সহজ হয়ে ওঠে না। বিভিন্নভাবে হিমশিম খেয়ে যেতে হয়।

    সংসারের জন্য ভাবতে ভাবতে নিজের জীবনের কিছুই থাকে না।

    একজন বাবা সন্তানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।কিন্তু একজন মা খুব সহজে তা পারেন না। একজন মা কতটা সংগ্রাম করে, নিজে কষ্ট করে সন্তানকে মানুষ করতে পারেন তা আমরা এই সমাজে প্রায়ই দেখে থাকি।

    একসময় বাবা শব্দটার প্রতি এতোটা ঘৃণা আসে যে এই শব্দটা শুনলেই রাগ হয়।গা ঘিনঘিন করে।
    আমার দেখা এক পরিবারের কথা বলি।

     

    একসময় বাবা শব্দটার প্রতি এতোটা ঘৃণা আসে যে এই শব্দটা শুনলেই রাগ হয়।গা ঘিনঘিন করে।
    আমার দেখা এক পরিবারের কথা বলি।

    এমনি এক পরিবার ছিলো।সেখানে ছিলো দুইটা কন্যা সন্তান। সংসারে তাদের বাবার বিভিন্ন অন্যায়,অত্যাচার সহ্য করতে করতে তারা বড় হয়েছিলো ঠিকই।কিন্তু এমন এক সময় আসলো যখন তাদের সহ্যের সীমাটা পেরিয়ে গেলো।  একদিন শোনা গেলো বড় মেয়েটা তার বাবার অত্যাচারে  আত্মহত্যা করেছে।শুনে খুব খারাপ লাগলো।কিন্তু করার কিছুই ছিলো না।

    তার বেশ কিছুদিন পর ছোট মেয়েটাও একই কাজ করলো।যার কারণে তারা দুই বোন এভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলো সেই লোকটার কিছুই হলো না।মাঝখান থেকে তাদের নিজের জীবন টা বিসর্জন দিতে হলো।

     

    তার বেশ কিছুদিন পর ছোট মেয়েটাও একই কাজ করলো।যার কারণে তারা দুই বোন এভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলো সেই লোকটার কিছুই হলো না।মাঝখান থেকে তাদের নিজের জীবন টা বিসর্জন দিতে হলো।

    হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন বাবার অত্যাচার সেটা আবার কি, কেমন?
    অনেকেই অবাক হবেন।

    কিন্তু এটাই সত্যি। কখনো কেউ শুনেছেন কোনো স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে তার বাবা উচ্চস্বরে বলছেন, নিজ নিজ পথ দেখে নে।আমি তোদের মা মেয়েকে চালাতে পারবো না।কি করে চলবি সেটা তোরা ঠিক কর।
    হুহ!

    এটা কি একজন বাবার কথা হতে পারে?
    শুধু জন্ম দিয়েই নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে পারে যেই লোক সে আর যাই হোক কখনো বাবা হয়ে উঠতে পারে না।

    রাস্তাপথে বের হলেই দেখা যায়,  ছেলে মেয়েরা  তাদের বাবার হাত ধরে এখানে ওখানে যাচ্ছে।

    বাবার হাত ধরে সবাই স্কুলে যায়। কিন্তু এমন ভাগ্য সবার হয়ে ওঠে না। কিছু কিছু বাবা তো চায় তার মেয়ে যেনো কখনো স্কুলেই না যায়।লেখাপড়া যেনো না করে।যাতে সে তার দায়িত্ব থেকে দূরে যেতে পারে।

    কিন্তু একটা মেয়ে যখন সকল প্রতিকূলতা ভেঙে নিজের প্রচেষ্টায় মায়ের অনুপ্রেরণায় লেখাপড়া শিখে নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।তখন এটাও ঐ ধরনের বাবার সহ্য হয় না।

    কিন্তু একটা মেয়ে যখন সকল প্রতিকূলতা ভেঙে নিজের প্রচেষ্টায় মায়ের অনুপ্রেরণায় লেখাপড়া শিখে নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।তখন এটাও ঐ ধরনের বাবার সহ্য হয় না।

    এভাবে দিনের পর দিন যেতে থাকে।আর আমাদের সমাজে জন্ম হতে থাকে এই ধরনের অসংখ্য বাবার।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৭:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১

    seradesh.com |

    advertisement
    advertisement
    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১ 
    advertisement

    সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সাদেকুল ইসলাম | সম্পাদক : আবু সাঈদ

    ঢাকা অফিসঃ বাড়ি #৫ (১ম তলা) রোড #০ কল্যাণপুর, ঢাকা-১২০৭, অফিস ঢাকা রোড সান্তাহার ৫৮৯১
    ফোন : 01767 938324 (মফস্বল) 01830 359796 (সম্পাদক) | E-mail : seradeshmoff@gmail.com, news@seradesh.com

    ©- 2021 seradesh.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

    %d bloggers like this: