• শনিবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম


    “মানবতার আলোকবর্তিকা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা”–অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

    জবি প্রতিনিধি | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫:২২ অপরাহ্ণ

    “মানবতার আলোকবর্তিকা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা”–অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

    বিভ্রান্ত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে বিভাজিত ভারতবর্ষের পাকিস্তান অংশের প্রথম রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত চলা পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন। দ্বিতীয় তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি হচ্ছে ছয় দফা আন্দোলন। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন। ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ৬ দফাকে কেন্দ্র করেই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান , ১৯৭০ এর নির্বাচন,১৯৭১ এর ৭  মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের মাঠে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিজয় অর্জন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ইতিহাসে এই প্রথম ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম আধুনিক রাষ্ট্রের মালিকানা লাভ করল। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি তাঁর রাষ্ট্রের মালিকানা হারিয়ে ফেলে। ১৫আগস্ট ১৯৭৫ জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার পরে যা অবশিষ্ট থাকল সেটাকে কোনভাবেই আর বাংলাদেশ বলা যাবে না। দেশটাকে পূর্ব পাকিস্তানে রূপান্তর করা হয়েছিল। একটা ঘটনা উল্লেখ করলেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে- স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, তারিখ ৭ মার্চ; শুধু সালটা ১৯৭৬। যেই রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম ।” যেখানে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল, ঠিক সেখানটাতেই সিরাত সম্মেলনে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ছয় দফা ঘোষণা করলেন। দফার সংখ্যা, স্থান এবং তারিখ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে দফার বিরুদ্ধে দফাকে দাঁড় করানো হয়েছিল। অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করেই এমনটি করা হয়েছিল। স্বাধীনতাবিরোধীরা মনে করত মুসলমান এবং পাকিস্তান সমার্থক।
    মুসলমানের পরাজয় হতে পারে না। মুসলমানের পরাজয়ের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলতেই জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের জায়গাটিতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিশু পার্ক তৈরি করেছিলেন। কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায়: “… এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,/… জানি, সেদিনের সব স্মৃতি মুছে দিতে/ হয়েছে উদ্যত কালো হাত। / তাই দেখি কবিহীন বিমুখ প্রান্তরে আজ/ কবির বিরুদ্ধে কবি,/ মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,/ বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল, / উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,/ মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ…”।
    সীরাত সম্মেলনে ঘোষিত ছয় দফার প্রথম দফাই ছিল “বাংলাদেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।” অন্যান্য দফার মধ্যে ছিল পতাকা বদলাতে হবে, শহীদ মিনার ভাঙতে হবে ইত্যাদি (অবশ্য এই রেসকোর্স ময়দানেই ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ পাকিস্তানের জাতির পিতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেছিলেন, “উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা”)। ওই সীরাত সম্মেলন উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এম জি তোয়াব জিয়াউর রহমান সরকারের  প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সীরাতে উপস্থিত পাকিস্তানের সমর্থক গোষ্ঠী স্লোগান তুলেছিল “তোয়াব ভাই তোয়াব ভাই, চাঁদ-তারা পতাকা চাই”। এমন একটি বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বঙ্গবন্ধুর নামটিও কেউ মুখে নিতে পারত না । ৪ আগস্ট ১৯৭৬, তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমান পিপিআর ঘোষণা করে। তাতে বলা হয়, “কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি ভক্তি বা বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারে এমন কোন নাম দল গঠনের প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে উল্লেখ থাকতে পারবে না ।”  ৪ নভেম্বর ১৯৭৬, জিয়াউর রহমান সরকার বঙ্গবন্ধুর  নাম কেটে দিয়ে আওয়ামী লীগকে দল করার অনুমতি নিতে বাধ্য করে। ৩১ আগস্ট ১৯৭৬, খাঁন আতা ও আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা জেনারেল জিয়ার সাথে দেখা করতে গেলে সিনেমা থেকে শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলার প্রস্তাব আসে। তৎকালীন তথ্য সচিব এবিএম গোলাম মোস্তফা তা দ্রুত কার্যকরের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। বঙ্গবন্ধুর ছবি ও নামের উপর কালি লেপনের নির্দেশনা জারি করেন।
    এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ১৭ মে  পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বিদেশে অবস্থান করায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। শুরু হয় রূপান্তরিত পূর্ব পাকিস্তানকে আবার বাংলাদেশের ধারায় ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। বাঙালির বুকে আশার সঞ্চার হয় বাংলাদেশকে আবার ফিরে পাওয়ার । এর মধ্যেই সহস্রাধিক সেনা সদস্যকে সামরিক বিচারিক প্রহসনের মাধ্যমে হত্যাকারী জিয়াউর রহমান একদল সেনা সদস্য কর্তৃক চট্টগ্রামে নিহত হন। কয়েকদিন ধানাই-পানাই করে বিচারপতি সাত্তারকে তাড়িয়ে ক্ষমতা দখল করেন অপর স্বৈরশাসক হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ। শুধু পীর বদল হয়-  “শর্ষিনা থেকে আটরশি”, বাকি সবই আগের মত। “সাফারি- সানগ্লাস -খাল কাটার” জায়গায় চলে এলো “মেরি (লেডি)-হেলিকপ্টার-গতরাতে স্বপ্ন দেখা মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়।” এরশাদ এক ধাপ এগিয়ে রাষ্ট্রের ভিত্তি ধর্মনিরপেক্ষতাকে চিরতরে বিতাড়িত করার জন্য রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামকে সামনে নিয়ে আসলেন । শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচন। কিন্তু ১৯৯১ এর নির্বাচনে গণতন্ত্র মুক্তি পেল না। সামরিক শাসক জিয়া এরশাদের মতোই গণতন্ত্র অবরুদ্ধ থাকলো ক্যান্টনমেন্টে। শহীদ নূর হোসেনের বুকে লেখা গণতন্ত্র পুরোপুরি মুক্তি পেল না। গণতন্ত্র থেকে গেল সেনানিবাসই।সেনানিবাসে থেকে গেলেন আমাদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। রয়ে গেল পাকিস্তানি ভাবধারা। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। ৮ জানুয়ারি ১৯৯৩, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আফিস নওয়াজ জানজুয়া আকস্মিক মৃত্যুতে নজিরবিহীন শোক বাণী পাঠান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জানজুয়া ১৯৭১ সালে হানাদার  হিসেবে বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনা করে। স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হলেও গণতন্ত্র মুক্তি পেল না।
    বিচারপতি শাহাবুদ্দিন এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে এদেশের মানুষ দীর্ঘ দেড় দশক পর গণতন্ত্রের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেও কুশীলবদের সূক্ষ্ম কারচুপির কারণে গণতন্ত্র ক্যান্টনমেন্টেই থেকে গেল। সেনানিবাস থেকেই গণতান্ত্রিক দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশ শাসন করতে লাগলেন। সামরিক গোয়েন্দাদের খবরদারি থেকে গেল সরকার ব্যবস্থায়। পরবর্তী সময়ে আরো দুটি নির্বাচনে ১৯৯৬ এ আওয়ামী লীগ ও পরে ২০০১ এ বিএনপি ক্ষমতায় এলেও বিরোধীদলের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে থেকে গেলেন। পাকিস্তানি কায়দায় সামরিক গোয়েন্দারা সবকিছুতেই খবরদারি করছিল। এই সময়ে ঘটে ইতিহাসের আরেকটি নিশংস হত্যার ঘটনা, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে, সকল গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজশে তৎকালীন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে সদলবলে হত্যায়ই ছিল এই গ্রেনেড হামলার উদ্দেশ্য। নারী নেত্রী বেগম আইভি রহমান সহ অসংখ্য নেতাকর্মী নিহত আহত হন এই গ্রেনেড হামলায়। আল্লাহর অসীম কৃপায় বেঁচে গেলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ক্যান্টনমেন্টে বসে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাই দেশ চালাতেন তার প্রমাণ মেলে ১/১১ এর ষড়যন্ত্রের সময়ও। প্রকাশ পেতে থাকে ব্রিগেডিয়ার আমিন-বারীদের হাতেই বন্দী ছিল গণতন্ত্র। সেনানিবাসের মইনুদ্দিনরাই জোগাড় করেছিল ফকরুদ্দিনদের। এদেশের গণতন্ত্র বিনাশী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সেনানিবাসে জন্মগ্রহণ ও নেতৃত্বের সেনানিবাসে অবস্থানকারী রাজনৈতিক দলটির সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীত। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একটি টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে ২০০৯ সালের পরবর্তী সময়ে দেশের সেনানিবাসে জন্মানো রাজনৈতিক দলটির নেতৃত্বকে আইনসম্মতভাবে সেনানিবাসের বাইরে নিয়ে আসা। এখানে আমি বাংলাদেশের রাজনীতির একটি স্থায়ী ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি। এখন ‘সংসদে -রাজপথে-মিডিয়ায়’ যেভাবে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে তা নিয়ে অনেক সমালোচনা হতে পারে; কিন্তু আজ থেকে ১০ বছর আগেও কিছু হলেই যেমনটি শোনা যেত,  ‘উত্তর পাড়ার (সেনানিবাসের) খবর কি’?,  এখন আর তেমনটি শোনা যায় না। একসময় একজন পান বিক্রেতা, রিক্সাওয়ালাও সেনাবাহিনী প্রধান, পরবর্তী এবং তার পরবর্তী প্রধানের নাম পর্যন্ত জানতো। এমনকি সাভার সেনানিবাসের জিওসি কে, ট্যাংক রেজিমেন্টের দায়িত্বে কে ইত্যাদি খবর সাধারণ মানুষের মুখে মুখে থাকতো। এখন সেদিন আর নেই। (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশে পলাতক কিছু সাংবাদিক এবং সাজাপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার ইউটিউব সংলাপকে দেশের মানুষ পাগলের প্রলাপ হিসেবেই গণ্য করে)। আর সেটা সম্ভব হয়েছে সেনানিবাসে অবস্থানকারী দলটির নেত্রীকে সেনানিবাস থেকে বের করে আনার মধ্য দিয়ে। এর আগ পর্যন্ত পাকিস্তানি ভাবধারায় যে দেশ চলছিল তার আর একটি উদাহরণ দেয়া যায়। ২০০৫ সালের ৩ মে মৃত্যুবরণ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। সে সময় বেগম খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করেই প্রধানমন্ত্রিত্ব চালাচ্ছিলেন। যার নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী কোন শোক বার্তা দেননি, এর বিপরীতটাই করেছিলেন জানজুয়ার ক্ষেত্রে।
    ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালিত্ব,অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্যভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। আর সেটার নেতৃত্বে অবশ্যই  দিচ্ছেন আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। যে দেশটি অস্তিত্বের সংকটের মধ্যে পড়েছিল,  ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের দারিদ্র্য নিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী উত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্রের ধারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিল, সেটাই আজকে বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময়। ১৯৭২-৭৩ থেকে শুরু করে ২০০৬-৭ সাল পর্যন্ত ৩৪  বছর সময় লেগেছিল মাথাপিছু আয় ৫৩২ ডলারে আসতে। ২০০৭-৮ থেকে ২০১৯-২০ এসে মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ২০৬৪ ডলারে। ১১ বছরে প্রায় চারগুণ হয়েছে। ২০২১ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২২২৭ডলার। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হচ্ছে নেতৃত্তের দূরদর্শিতা। নেতৃত্বের দূরদর্শিতা কিভাবে একটা জাতিকে উন্নয়নের পথ দেখায় তা বুঝার জন্য একটা উদাহরন দিচ্ছি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঞ্চগড় সফরে গেলেন। নেত্রীর অগ্রগামী দল  হিসাবে আমরা যারা যুবলীগের নেতৃত্বে ছিলাম আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলাম। বিকেলে সবাই যখন চা খাচ্ছিলাম তখন প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করেই বলে বসলেন, “ভারতের দার্জিলিং এ যদি  চা  চাষ হতে পারে, তাহলে পঞ্চগড়ে কেন হবেনা”। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ রবিউল হোসেন। সম্ভাবনা যাচাই করতে তিনি মৌলভিবাজার থেকে চারা সংগ্রহ করে টবে লাগালেন। ২৫ বছর পর এখন পঞ্চগড়ে প্রায় ৩০০০ হেক্টর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। ২০১৭ সালে উৎপাদন ছিল ৫৫ লক্ষ কেজি। বছরে তিন কোটি কেজি চা উৎপাদন সম্ভব।
    শেখ হাসিনার মনোবল কত দৃঢ় এবং সিদ্ধান্তে কতটা অবিচল তার প্রমাণ পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের  এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে। দেশী-বিদেশী সকল চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তিনি ছিলেন আপোষহীন। এছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে মুখের উপর গ্যাস রপ্তানির সুযোগ নাকচ করে দিয়েও তার অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ। দেশি-বিদেশি চক্রান্তে কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য দাতা সংস্থা যখন অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ালো তখন কাল বিলম্ব না করে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত নিলেন পদ্মাসেতু হবে নিজস্ব অর্থায়নে এবং হয়েছেও তাই। পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, “সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীরে কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না”। বঙ্গবন্ধুর এই উক্তির স্থাপত্য রূপ হচ্ছে পদ্মা সেতু। ১৯৯৬ সালে  দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তোলে ‘সিউল থেকে বুসান’ হাইওয়ে নির্মাণে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্ব ব্যাংক।
    তখন দক্ষিণ কোরিয়া মহাসড়কটি নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করে দেখিয়ে দেয়, “আমরাও পারি”। এরপর থেকে বিশ্বব্যাংকের নির্ভরতা কমিয়ে আনে। ১৯৯৬ সালের পরে দক্ষিণ  কোরিয়া আর  বিশ্বব্যাংকের কোন ঋণ গ্রহণ করেনি।
    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সততা এবং দুর্নীতিমুক্ত থাকার কারণে বিশ্ব দরবারে অনন্য এক উচ্চতায় আসীন হয়েছেন। সম্প্রতি ইউরোপের একটি গবেষণা সংস্থা “পিপলস এন্ড পলিটিক্স” বিশ্বের ৫ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছেন যাদের কোনো দুর্নীতি স্পর্শ করেনি। এদের বিদেশে কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই, উল্লেখ করার মত সম্পদও নেই। ১৭৩ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে স্কোর করা হয়। এই তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, তাঁর স্কোর ৯০। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং , স্কোর ৮৮। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮৭ স্কোর পেয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ  এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করেন, তাঁদের স্কোর ছিল যথাক্রমে ৮৫ এবং ৮১ । এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয় দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ মনে করে শেখ হাসিনা দুর্নীতিমুক্ত এবং লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে। ছোটখাটো দুর্নীতিও তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।
    জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা দেখি বঙ্গবন্ধুর সমস্ত মানবিক গুণাবলীকে উত্তরাধিকার হিসেবে নিয়ে আত্মমানবতার সেবায় নিবেদিত হতে। ১৯৮৮ সালের প্রলয়ংকারী বন্যায় নিজ হাতে বন্যার্তদের জন্য রুটি বানাতে আমরা দেখেছি। একইভাবে নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের সকল সদস্যদের হারানো তিন কন্যাকে নিজের কন্যা হিসেবে গ্রহণ করে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করতে দেখেছি। এরকম আরো অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে  যার মধ্য দিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনার মানবিকতার পরিস্ফুটন ঘটেছে। চলমান করোনা মহামারীর গত এক বছরেও সারাদেশে ৫০ লাখ পরিবারকে আর্থিক মানবিক সহায়তার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন শেখ হাসিনা ।পৃথিবীর ইতিহাসে এটি বিরল। পূর্ব থেকেই আরো ৫০ লাখ পরিবারের দুই কোটি সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে ছিল। এর আওতায় ভিজিএফ কার্ড, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষা ভাতা, প্রতিবন্ধী  ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্তাদের জন্য ভাতা ইত্যাদি চালু করে একটি উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আদর্শ মডেল হিসেবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই স্থান করে নিয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সর্বশেষ মাইলফলক উদাহরণ হচ্ছে গৃহহীনদের গৃহদান। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এই মুজিববর্ষে সাড়ে ৮ লক্ষ গৃহহীন মানুষকে পাকা ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে খুব সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় দুস্থদের জন্য গৃহায়ন প্রকল্প। বর্তমান বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মানবিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। জাতিসংঘের চলতি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবতা দেখিয়েছেন তা মনে রাখবে বিশ্ববাসী”। জাতিসংঘের কার্যক্রমে বিশ্ব শান্তি রক্ষায়, জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসা করেন জাতিসংঘের মহাসচিব। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কতটা মানবিক এর একটা উদাহরণ দিয়েই আজকের আলোচনার শেষ করব ১২সেপ্টেম্বর ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশে আশ্রয়গ্রহণকারী নির্যাতিত নারী ও শিশুর  মুখে নির্বিচারে হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও বর্বরোচিত অত্যাচারের কথা শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এই রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের উপর একটি সংবাদচিত্র লন্ডনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম “চ্যানেল ফোর” কর্তৃক প্রচারিত হয়। চ্যানেলটির এশিয়ান করেসপন্ডেন্ট জনাথান মিলার তার প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মমত্ববোধ, মানবিকতা, মহানুভবতা ও উদারনৈতিক মানসিকতার জন্য “মাদার অব হিউম্যানিটি” অভিধায় অভিহিত করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন জনসাধারণের ক্ষমতায়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশ্ব  জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা , শান্তি ও স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে  তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের বহু খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করেছে এবং পদকে ভূষিত করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় এবছর জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘জুয়েল ইন দি ক্রাউন অফ দি ডে’ (মুকুট মণি) হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সাফল্য দেশ ও জাতির জন্য বয়ে এনেছে গৌরব, আমরা হয়েছি মর্যাদাবান।
    এর বিপরীতে দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের  চেয়ারপারসন তাঁর প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের দুর্নীতির দায়ে আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানের সাময়িক বিরতিসহ জেল খাটছেন। অনেকে বলেন সামান্য আড়াই কোটি টাকার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার ১০ বছর জেল হওয়া খুবই অমানবিক। এটা নাকি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। অনেকটা এমন, বড় রাজনীতিবিদদের বড় দুর্নীতি বিচার করা যাবে, হাজার কোটি টাকা চুরি  না করলে এর বিচার করা যাবে না। বড় রাজনীতিবিদদের যখন দুর্নীতির দায়ে ধরা হয় সারা পৃথিবীতেই এসকল নেতারা নাকি কান্নাকাটি করেন এবং অন্যরাও দুর্নীতি করেছে অজুহাত দেখিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা চালান। এর অর্থ এই যে, কোন অসৎ রাজনীতিবিদকে সাজা দেয়া যাবে না, যদি না প্রথমে অন্য সব অসৎ রাজনীতিকদের সাজা দেয়া না হয়। মনে রাখতে হবে আমাদের দেশেই বেগম জিয়ার শাসনামলে জনতা টাওয়ার মামলায় মাত্র ৫ লাখ টাকার জন্য এরশাদের পাঁচ বছর জেল হয়। করের অতিরিক্ত টাকা ফেরত পাওয়ায়। মামলা চলে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। মামলা চলে ৯ বছর চার মাস। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মামলার রায় হয়। কার্যদিবস ২৮০ দিন, খালেদা জিয়ার হাজিরা ৩৬ দিন। মামলাটির পরোতে পরোতে আইনি ব্যাখ্যার নামে কালক্ষেপনের  উদ্দেশ্যে উচ্চ আদালতে পঁচিশ বার পাঠানো হয়। মামলাটির শেষের দিকে দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস কে সিনহা, প্রতিবারই মামলার যথার্থতা (মেরিট) সঠিক বলে বিবেচিত হয় এবং বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানো হয়। বিচারক বদল হয় চারবার। আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আসামিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ দিয়ে রায় প্রদান করা হয়। তারও আগে ১৯৭৫  পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বোস অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরীকে তিন মাস জেল দিয়েছিলেন পনেরশো টাকা হিসাবে গরমিলের অজুহাতে। ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে শত শত প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যকে প্রায় বিনা বিচারে তথাকথিত সংক্ষিপ্ত সামরিক আদালতের মাধ্যমে জেলখানার ভিতরে বিচার করে ফাঁসি দেয়া হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আজও জানেন না এ সকল সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের কি অপরাধ ছিল। ‘৭৫ এবং পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থানগুলোতে জেনারেল জিয়া যার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন পেয়েছিলেন সেই কর্নেল তাহেরকে প্রায় বিনা বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। এখনো স্পষ্ট নয় জিয়াউর রহমান কেন কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন। অনেকে মনে করেন তাঁর ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান তাঁর রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অন্যতম শিখন্ডী খন্দকার মোশতাককেও ছাড় দেননি। মোস্তাককে ক্ষমতাচ্যুত করতে জিয়া প্রধান বিচারপতিকে এই পদে নিয়ে আসেন। পরে নিজেই সেই পদে আসীন হন। মোস্তাক তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দিয়ে রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য ডেমোক্রেটিক লীগ গঠন করেন। মোশতাকের দলের বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত জনসভায় গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় সাপ ছেড়ে দেয়া হয়। তারপরও যখন মোশতাককে নিবৃত করা যাচ্ছিল না, জিয়া তখন মোস্তাকের দাউদকান্দির গ্রামের এক প্রতিবেশীকে দিয়ে জমি জবর দখলের মামলা করিয়ে মোস্তাককে সামরিক আদালতে ছয় বছরের জেল দেন, যাতে মোস্তাক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হন।
    দেশের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত কেউ কি পরিমাণ দুর্নীতি করলে তাকে দুর্নীতিবাজ বলা যাবে এ ব্যাপারে ফ্রান্সিস বেকনের একটি উদাহরণ দিয়ে আজকের আলোচনার সমাপ্তি টানবো। ফ্রান্সিস বেকন(১৫৬১-১৬২৬), ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক। রানী এলিজাবেথের মৃত্যুর পর ১৬০৩ সালে রাজা প্রথম জেমসের উপদেষ্টা নিয়োজিত হন, ১৬০৭ সালে সলিসিটর জেনারেল, ১৬১৪ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৬১৮ সালে লর্ড চ্যান্সেলর (চিফ জাস্টিস সমমর্যাদার) নিযুক্ত হন। বিচারকের আসনে বসে তিনি মামলাকারীদের কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণ করেন, যদিও সেকালে এটা স্বাভাবিক ছিল, তবুও এটি অবৈধ। এই অপরাধের দায়ে বেকন ক্ষমতাচ্যুত হন, টাওয়ার অফ লন্ডনে তাঁকে বন্দী করা হয়, বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়, সারা জীবনের জন্য সরকারি পদে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে অবশ্য রাজা ক্ষমা করে দেন। যদিও জনগণের বিশ্বাস হত্যা এবং ঘুষ গ্রহণের কারণে সাজাপ্রাপ্ত উচ্চমানের রাজনীতিবিদদের দৃষ্টান্ত সে আমলেও খুবই কম ছিল। সাজা ঘোষণার পর বেকনের মন্তব্য ছিল একটু অন্যরকম “ইংল্যান্ডের ৫০ বছরের মধ্যে আমি ছিলাম ন্যায়পরায়ণতম বিচারক, কিন্তু আইনসভার ২০০ বছরের মধ্যে এটাই ছিল ন্যায্যতম তিরস্কার।”
    এতিমের জন্য বিদেশ থেকে আনা টাকা আত্মসাতের চেষ্টায় বেগম খালেদা জিয়ার মাত্র ১০ বছর জেল হয়েছে। এর কম আর কি সাজা হতে পারত ? পবিত্র কোরআনে আছে, “যারা এতিমের অর্থ-সম্পদ অন্যায় ভাবে ভোগ করে  তাঁরা যেন আগুন খেলো এবং তাঁরা অতিসত্বর অগ্নিতে প্রবেশ করবে ।”( সূরা- আল নিসা, আয়াত- ১০)।
    ড. মীজানুর রহমান 
    অধ্যাপক, মার্কেটিং বিভাগ
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৫:২২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

    seradesh.com |

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

    সম্পাদক : মোঃ আতোয়ার হোসেন | বার্তা সম্পাদক : আবু সাঈদ

    ঢাকা অফিসঃ বাড়ি #৫ (১ম তলা) রোড #০ কল্যাণপুর, ঢাকা-১২০৭, অফিস ঢাকা রোড সান্তাহার ৫৮৯১
    ফোন : 01767 938324 (মফস্বল) 01830 359796 (সম্পাদক) | E-mail : seradeshmoff@gmail.com, news@seradesh.com

    ©- 2021 seradesh.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

    %d bloggers like this: