• রবিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম


    কলেজে যোগদানের ১০ বছর পর জানা গেল প্রভাষকের সনদটি জাল

    নওগাঁ প্রতিনিধি | ৩০ নভেম্বর ২০২১ | ৯:২৫ অপরাহ্ণ

    কলেজে যোগদানের ১০ বছর পর জানা গেল প্রভাষকের সনদটি জাল

    নওগাঁর রাণীনগর শের ই বাংলা সরকারি কলেজে প্রভাষক পদে ১০ বছর ধরে চাকরি করছেন মো. নুরুজ্জামান। এতদিন শিক্ষার্থীদের শ্রেণি পাঠদানে জ্ঞানগর্ভ শিক্ষা দিতেন। পরামর্শ দিতেন সৎ মানুষ হওয়ার। নিজেকেও পরিচয় দিতেন একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে। কিন্তু ওই শিক্ষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি জাল।

    গত ৮ নভেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সনদ যাচাই করে করে এর সত্যতা পেয়েছে। এনটিআরসি কর্তৃপক্ষ মো. নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন। নুরুজ্জামান রাণীনগর শের ই বাংলা সরকারি কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক।


    একাধিক সূত্র জানায়, রাণীনগর শের-ই বাংলা সরকারি কলেজ সরকারি ঘোষণায় ২০১৯ সালে জাতীয়করণ করা হয়। শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়ে নুরুজ্জামান নিবন্ধন সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় গত ৮ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এনটিআরসির সহকারী পরিচালক ফিরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত সনদ যাচাই–সংক্রান্ত চিঠি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া কলেজের অধ্যক্ষকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। ভুয়া সনদে চাকরির অপরাধে ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এনটিআরসিএর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ ব্যাচের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ উল্লেখ থাকা নুরুজ্জামানের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের সময় ভুয়া প্রমাণিত হয়। প্রকৃত সনদধারীর নাম মো. সাজেদুল ইসলাম। তার এই নিবন্ধন সনদটি গ্রহনে জাল/জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ছিলেন বলে দলিলদৃষ্টে প্রতিয়মান হয়েছে বিধায় উক্ত জাল ও ভূয়া সনদধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক অত্রাফিসকে অবহিতের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। নুরুজ্জামান ২০১২ সালে ওই কলেজে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান এবং ২০১৪ সালে তিনি এমপিও ভুক্ত হন।


    এ ব্যাপারে নুরুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার নিবন্ধন সনদ সঠিক আছে। গত ৮ নভেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক প্রদত্ত চিঠিতে আমার এবং আমার বাবার নাম ঠিক থাকলেও মায়ের নাম ঠিক নেই। বিগত দিনে বিভিন্ন কর্মকর্তা অনেকবার আমার কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে সঠিকতা পেয়েছেন।

    ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন আগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছি। অধ্যক্ষ নুরুজ্জামানকে কিভাবে নিয়োগ দিয়েছেন আমি জানিনা। তবে কলেজের সকল শিক্ষক ও কর্মচারীর কাগজপত্র কলেজে থাকলেও প্রভাষক নুরুজ্জামানের কোন কাগজপত্র কলেজে নেই। তার কাছে কাগজ পত্র চাইলে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।


    কলেজটির সভাপতি ও রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, এনটিআরসিএ কর্তৃক প্রেরিত চিঠির অনুলিপি আমি পেয়েছি। চিঠির প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৯:২৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১

    seradesh.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১ 

    সম্পাদক : মোঃ আতোয়ার হোসেন | বার্তা সম্পাদক : আবু সাঈদ

    ঢাকা অফিসঃ বাড়ি #৫ (১ম তলা) রোড #০ কল্যাণপুর, ঢাকা-১২০৭, অফিস ঢাকা রোড সান্তাহার ৫৮৯১
    ফোন : 01767 938324 (মফস্বল) 01830 359796 (সম্পাদক) | E-mail : seradeshmoff@gmail.com, news@seradesh.com

    ©- 2022 seradesh.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

    %d bloggers like this: