জীবিকার তাগিদে টানা তিন দশক ধরে বগুড়ার আদমদীঘিতে ছাতা মেরামতের কাজ করে চলেছেন শাহজাহান। বর্ষা এলেই তার ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদমদীঘি সদর, সান্তাহার, ছাতিয়ানগ্রাম ও নসরতপুরে রাস্তার পাশে এবং হাট-বাজারে বসে পুরোনো ছাতা মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।
শাহজাহান জানান, নতুন ছাতার দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই এখন পুরোনো ছাতা মেরামত করে ব্যবহার করতে চান। ফলে বর্ষা মৌসুমে কাজের চাপও বাড়ে। একটি ছাতা মেরামতের জন্য ক্ষতির ধরন অনুযায়ী ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন তিনি।
দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি ছাতার ভাঙা শিক, কাপড়, হাতল ও স্প্রিংসহ প্রায় সব ধরনের ত্রুটি মেরামত করতে পারেন। প্রতিকূলতা ও বয়সের ভার সত্ত্বেও এই পেশা ছাড়ার কথা ভাবেননি। কারণ, এই কাজই তার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস।
শাহজাহানের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার পারইল গ্রামে।
স্থানীয়রা বলেন, শাহজাহানের কাজে দক্ষতা ও সততার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। অনেকেই নতুন ছাতা না কিনে তার কাছেই পুরোনো ছাতা মেরামত করিয়ে নেন।
সময়ের পরিবর্তনে অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে গেলেও শাহজাহানের মতো ছাতা মেরামতকারীরা এখনও শ্রম, দক্ষতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে একটি প্রয়োজনীয় পেশাকে টিকিয়ে রেখেছেন।