মোটরসাইকেলের সাইলেন্সর পরিবর্তন করে বিকট শব্দ সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে নওগাঁয় সাকলাইন মোস্তাক (রাতুল) নামে এক কিশোরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছে ট্রাফিক পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় জেলা পরিষদ পার্কের গেটের সামনে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাকলাইন মোস্তাক বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানার দেলুনজো গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। বর্তমানে তারা স্বপরিবারে নওগাঁ শহরের চকদেব জনকল্যাণ মহল্লায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে ওই কিশোর একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেলের সাইলেন্সর পরিবর্তন করে শহরের বিভিন্ন সড়কে উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে মুক্তির মোড় এলাকায় জেলা পরিষদ পার্কের গেটের কাছে স্থানীয় কয়েকজন তাকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে ট্রাফিক পুলিশকে খবর দেন। পরে ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি জব্দ করে এবং আইন অনুযায়ী মামলা দেয়।
নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পিএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছুটির সময়ে শহরের ওই এলাকায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো কিশোরদের আনাগোনা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান দাবি করেছেন তারা।
আটক কিশোরের মা বলেন, ছেলে বাবা-মায়ের কথা শুনতে চায় না। তাকে নিয়ে আমরা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছি। একপ্রকার জোর করেই আমাদের দিয়ে মোটরসাইকেল কিনিয়েছে। সে অনলাইনে টুকটাক কাজ করে কিছু টাকা আয় করে। নিজের সেই টাকা দিয়ে মোটরসাইকেলের সাইলেন্সরসহ বিভিন্ন পরিবর্তন করেছে।
নওগাঁর ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট জগদীশ চন্দ্র বলেন, মোটরসাইকেলের সাইলেন্সর পরিবর্তন করে বিকট শব্দ করা আইনবিরোধী। এছাড়া ওই কিশোরের ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল না। এসব কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। পরিবর্তন করা সাইলেন্সরটি খুলে নেওয়া হবে এবং সেটি ফেরত দেওয়া হবে না।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নওগাঁ শহরের কেডির মোড়ে বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলের চাপায় নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সাবেক হিসাবরক্ষক আব্দুস সাত্তার (৬৫) নিহত হন। একের পর এক এমন ঘটনায় শহরে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।