নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) মানববন্ধনের আয়োজন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জকসুর আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য মানববন্ধনে নিয়োগ পরীক্ষার নম্বর বণ্টনে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরির প্রতিবাদ জানানো হয়। আয়োজকদের দাবি, লিখিত পরীক্ষায় নম্বরের গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভায় বেশি নম্বর রাখলে মেধার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন," সরকার চাচ্ছে ভাইভা পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের যত কর্মী, যত লোকজন আছে, তাদের বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অধিষ্ঠিত করতে। এর মাধ্যমে তারা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়, যাতে তাদের ক্যাডাররা শিক্ষার্থীদের বলতে পারে—‘ভাই, ভাইভায় নাম্বার বেশি।’ তুমি যদি ভাইয়ের রাজনীতি না করো, তাহলে তুমি ভাইভায় পাস করতে পারবে না।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, আপনারা যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়ে না আসেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আপনাদের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করবে। তারপরও যদি আপনারা পিছু না হটেন এবং একের পর এক শিক্ষার্থীবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন, তাহলে আপনাদের গুটিয়ে এ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য করা হবে।
এ বিষয় জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, "এসব কমিটি কার্ড, ভাইভা কার্ড—এ সমস্ত পদ্ধতির মাধ্যমে ছাত্রসমাজকে শান্ত করতে পারবেন না। নিজেদের দলীয় লোকদের চাকরিতে ঢোকানোর জন্য যে ষড়যন্ত্র করছেন এবং যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন, সেই একই প্রক্রিয়ায় চাকরিতে দলীয় লোকদের বসানোর চেষ্টা আমরা মেনে নেব না। সুতরাং ভালোয় ভালোয় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিন এবং ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর এই অন্যায্য সিদ্ধান্ত পরিহার করুন।"
জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, " আপনারা যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন, সেগুলো থেকে সরে আসুন। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। লিখিত পরীক্ষা যেভাবে আছে, সেভাবেই রেখে অন্যান্য বিষয়গুলো—নিয়োগ প্রক্রিয়ার যেসব ত্রুটি ও অসংগতি রয়েছে—সেগুলো কীভাবে সুন্দর ও স্বচ্ছ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করুন। শুধুমাত্র ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে আপনারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবেন—এমনটা ভাবা আসলে ভুল। আশা করি, আপনারা বিষয়টি উপলব্ধি করবেন।
এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ 'বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হবে পয়সায়’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।