বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রায় ডজন খানেক মামলার আসামি নিহত বকুল ওরফে ল্যাংড়া বকুলের স্ত্রী পারভিন খাতুন বাঁচার আকুতি জানিয়ে এবং সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য জীবনের নিরাপত্তা দাবি করে বলেন, যার দ্বারা বকুল খুন হয়েছে তাকে আমি নিজে ডেকে এনে পুলিশে সোপর্দ করেছি। ওই মামলায় আমাকে এবং আমার বাবা-মাকেও অসামি করা হয়েছে।
রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পারভিন খাতুন এসব দাবি করেন। তিনি বলেন, বকুল হত্যা মামলায় আমাকে আসামি করা হলেও আমার পা ভাঙ্গা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থতার কারণে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
বকুল খুনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পারভিন খাতুন বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় বাড়ির ভিতরেই ছিলাম । শুধুমাত্র হৈহুল্লোর শুনেছি। আর বিভিন্ন জনের কাছ থেকে শুনেছি। আমার বাবা-মা বকুল খুনের সাথে জড়িত না । বকুল ও তার সহযোগিরা বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়।
তারা আমার বাবার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তারপর আমার জামাই এগিয়ে এলে তার উপর হামলার চেষ্টা করলে তার সাথে ধ্বস্তা-ধ্বস্তির এক পর্যায়ে বকুল খুন হয়। আমার বাবা-মা খুনের সাথে জড়িত না হওয়ার পরেও তারা এখন জেলাখানায় রয়েছে।
তিনি বলেন, বকুল খুনের পর প্রশাসনের সামনেই আমার পরিবারের সমস্ত মূল্যবান জিনিষপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় জীবন-যাপন করছি। যে কোন সময় সন্ত্রাসী বকুলের সহযোগিরা আমার উপর হামলা চালাতে পারে। আমাকে হত্যা করতে পারে।
তিনি যেন বাঁচতে পারেন সেজন্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বার বার কান্নাজড়িত কন্ঠে আকুতি জানান। এখনো তার বাড়ির আশপাশে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরণের ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। পাশাপাশি তার পরিবারের লুট হওয়া জিনিষপত্র উদ্ধার করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে বগুড়া মহানগরের নিশিন্দারা উত্তরপাড়ার আব্দুল গনির ছেলে এক ডজন মামলার আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী ল্যাংড়া বকুল ঝোপগাড়িতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী মোঃ পারভীন খাতুনকে ডাকাডাকি করলে স্ত্রী বাথরুমে থাকায় দেরি হবে মর্মে জানায়।
এতে বকুল ডাক চিৎকার শুরু করলে ভিকটিমের শশুর মোঃ দুলু হোসেন, স্ত্রী পারভিন, শাশুড়ি বুলিসহ ৪-৫ জন মিলে ভিকটিম বকুলকে চেঁচামেছি না করার জন্য বলে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ মাঝে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার এক পর্যায়ে ধব্বস্তা-ধ্বস্তির এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বকুল ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।