বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার উত্তর হিন্দুকান্দি গ্রামে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে মারধর, তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন ছেলে ও পুত্রবধূসহ চারজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে বৃদ্ধার জামাতার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে সারিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মোছা. লাইলী বেগম (৬৮), স্বামী মৃত তৈয়ব, সারিয়াকান্দি থানায় দায়েরের জন্য প্রস্তুত করা অভিযোগে এসব কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগের তীর ছেলে মো. হেলাল মিয়া (৪৫), মো. দেলোয়ার হোসেন (৪২), মো. বিল্লাল মিয়া (৩৫) এবং পুত্রবধূ মোছা. সহিদা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের সবার বাড়ি উত্তর হিন্দুকান্দি গ্রামে।
স্বামীর দেওয়া বসতভিটার দলিল নিয়ে বিরোধ
অভিযোগে লাইলী বেগম উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী মৃত্যুর আগে বসতবাড়ির দখলীয় সম্পত্তি লিখিত দলিলের মাধ্যমে তাঁর নামে সম্পাদন করে দেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই অভিযুক্তরা তাঁকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে ওই বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন বলে তাঁর দাবি।
এ ছাড়া তাঁর নামে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিয়ে মেয়ের সঙ্গে কথোপকথনের জেরে বিরোধ আরও বাড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কথোপকথনের বিষয়টি জানতে পেরে পুত্রবধূ সহিদা বেগম অন্য অভিযুক্তদের ডেকে আনেন বলে দাবি করেছেন লাইলী বেগম।
লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মারধরের অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও অন্যান্য বস্তু নিয়ে লাইলী বেগমের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগে ফোলা ও ব্যথাযুক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লাইলী বেগমকে রক্ষা করতে তাঁর জামাতা মো. খালেক (৪০) এগিয়ে এলে প্রথম অভিযুক্ত হেলাল মিয়া তাঁর হাতে থাকা এসএস পাইপ দিয়ে খালেকের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে খালেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা-ফোলা ও ব্যথাযুক্ত জখম হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এ সময় লাইলী বেগমের মেয়ে মোছা. হেলেনা বেগম (৩৫) মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে আরেক মেয়ে মোছা. ছকিনে বেগম (৪৫) ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁকেও মারধরের চেষ্টা করা হয়। তিনি বাম হাত দিয়ে বাধা দেওয়ার সময় হাতে আঘাত পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেশীদের সহায়তায় উদ্ধার, হাসপাতালে চিকিৎসা
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। এ সময় মোছা. হেলেনা বেগম ও মোছা. ছকিনে বেগমসহ অন্যরা তাঁদের উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে বসতভিটার জমি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁরা সাক্ষীদের সহযোগিতায় সারিয়াকান্দি হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জামাতা খালেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন।
চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন লাইলী বেগম।
বসতভিটার দলিল উদ্ধারে আইনি পদক্ষেপের দাবি
লাইলী বেগমের দাবি, স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া বসতভিটার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি নিজের দখলীয় জমির দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি হামলা, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।