ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
সেরাদেশ

পাবনা জেলার আজ ১৯৮তম জন্মদিন



পাবনা জেলার আজ ১৯৮তম জন্মদিন

ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবময় অধ্যায় নিয়ে এগিয়ে চলেছে পদ্মা-যমুনাবিধৌত জনপদ

শিল্প-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ জনপদ একসময় পাবনা ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। হোসিয়ারি শিল্প, তাঁত, কাঁচি, বেনারসি ও কাতানসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য এ জেলার পরিচিতি রয়েছে। এসব শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বিকাশের ইতিহাস।

কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং স্থানীয় বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন সম্ভব হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পাবনা নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মত পাবনা নামের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে একাধিক মত প্রচলিত রয়েছে। ইতিহাসবিদ রাধারমণ সাহা তাঁর ‘পাবনা জেলার ইতিহাস’ গ্রন্থে পদ্মার অববাহিকার ‘পাবনী’ নামের সঙ্গে পাবনার নামকরণের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানা যায়।

অন্য একটি মত অনুসারে, ফরাসি শব্দ ‘পানবহ’—যার অর্থ তুলা বা তুলাজাত দ্রব্য—থেকে পাবনা নামের উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। এ অঞ্চলে তাঁত ও বস্ত্র শিল্পের ঐতিহ্য থাকায় কেউ কেউ এ ব্যাখ্যার পক্ষে মত দেন।

এ ছাড়া প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন জনপদ, ‘পদুবম্বা’ নামের একটি সামন্তরাজ্য কিংবা ‘পবন’ নামের এক কিংবদন্তিতুল্য দস্যুর নামের সঙ্গে পাবনার নামকরণের সম্পর্ক রয়েছে বলেও বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে। তবে এসব ব্যাখ্যার কোনোটিই সর্বসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। ফলে পাবনা নামের প্রকৃত উৎপত্তি নিয়ে ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের সুযোগ এখনো রয়েছে।

নয় উপজেলা নিয়ে বর্তমান পাবনা বর্তমানে পাবনা জেলা রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত। পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া ও ভাঙ্গুড়া—এই নয়টি উপজেলা নিয়ে জেলাটি গঠিত। পদ্মা ও যমুনা নদীঘেঁষা ভৌগোলিক অবস্থান, কৃষি, ঐতিহ্যবাহী শিল্প এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এ জেলার স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে।

ঐতিহ্য সংরক্ষণই হোক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার পাবনার ১৯৮ বছরের ইতিহাস কেবল একটি প্রশাসনিক জেলার বয়সের হিসাব নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, সাংস্কৃতিক বিকাশ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং রাজনৈতিক সচেতনতার দীর্ঘ ইতিহাস। সময়ের পরিবর্তনে জেলার সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রেও রয়েছে কাজের সুযোগ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের কাছে গৌরবময় অতীত তুলে ধরা এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যাশাই হয়ে উঠতে পারে পাবনাবাসীর সম্মিলিত অঙ্গীকার।

সেরাদেশ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


পাবনা জেলার আজ ১৯৮তম জন্মদিন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবময় অধ্যায় নিয়ে এগিয়ে চলেছে পদ্মা-যমুনাবিধৌত জনপদ

শিল্প-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ জনপদ একসময় পাবনা ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। হোসিয়ারি শিল্প, তাঁত, কাঁচি, বেনারসি ও কাতানসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য এ জেলার পরিচিতি রয়েছে। এসব শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বিকাশের ইতিহাস।

কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং স্থানীয় বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন সম্ভব হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পাবনা নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মত পাবনা নামের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে একাধিক মত প্রচলিত রয়েছে। ইতিহাসবিদ রাধারমণ সাহা তাঁর ‘পাবনা জেলার ইতিহাস’ গ্রন্থে পদ্মার অববাহিকার ‘পাবনী’ নামের সঙ্গে পাবনার নামকরণের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানা যায়।

অন্য একটি মত অনুসারে, ফরাসি শব্দ ‘পানবহ’—যার অর্থ তুলা বা তুলাজাত দ্রব্য—থেকে পাবনা নামের উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। এ অঞ্চলে তাঁত ও বস্ত্র শিল্পের ঐতিহ্য থাকায় কেউ কেউ এ ব্যাখ্যার পক্ষে মত দেন।

এ ছাড়া প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন জনপদ, ‘পদুবম্বা’ নামের একটি সামন্তরাজ্য কিংবা ‘পবন’ নামের এক কিংবদন্তিতুল্য দস্যুর নামের সঙ্গে পাবনার নামকরণের সম্পর্ক রয়েছে বলেও বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে। তবে এসব ব্যাখ্যার কোনোটিই সর্বসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। ফলে পাবনা নামের প্রকৃত উৎপত্তি নিয়ে ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের সুযোগ এখনো রয়েছে।

নয় উপজেলা নিয়ে বর্তমান পাবনা বর্তমানে পাবনা জেলা রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত। পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া ও ভাঙ্গুড়া—এই নয়টি উপজেলা নিয়ে জেলাটি গঠিত। পদ্মা ও যমুনা নদীঘেঁষা ভৌগোলিক অবস্থান, কৃষি, ঐতিহ্যবাহী শিল্প এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এ জেলার স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে।

ঐতিহ্য সংরক্ষণই হোক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার পাবনার ১৯৮ বছরের ইতিহাস কেবল একটি প্রশাসনিক জেলার বয়সের হিসাব নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, সাংস্কৃতিক বিকাশ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং রাজনৈতিক সচেতনতার দীর্ঘ ইতিহাস। সময়ের পরিবর্তনে জেলার সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রেও রয়েছে কাজের সুযোগ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের কাছে গৌরবময় অতীত তুলে ধরা এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যাশাই হয়ে উঠতে পারে পাবনাবাসীর সম্মিলিত অঙ্গীকার।


সেরাদেশ

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম
সম্পাদক: আতোয়ার হোসেন
বার্তা সম্পাদক: তরিকুল ইসলাম।

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সেরাদেশ
পাবনা জেলার আজ ১৯৮তম জন্মদিন
0:00 0:00
1.0x