ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সেরাদেশ

নিয়োগ বানিজ্য সরকারি, অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারে অনিয়ম

ক্ষেতলাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ



ক্ষেতলাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার ইমন মিয়া।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার ইমন মিয়ার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া, সরকারি অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারে অনিয়ম, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার, নিয়োগ-বাণিজ্য এবং জ্বালানি ব্যবহারে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, উপজেলার বড় বস্তা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন দাবি করেন, ২০২৫ সালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ক্ষেতলাল ফায়ার স্টেশনে সহকারী বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে স্টেশন অফিসার ইমন মিয়া তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে কিছুদিন চাকরি করার পর বিভিন্ন অজুহাতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তার এক মাসের বেতনের টাকাও স্টেশন অফিসার নিয়ে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার প্রায় ৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগে চাকরি পুনর্বহাল ও  তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ছামছুদ্দিনের স্বাক্ষরিত আরেক অভিযোগপত্রে স্টেশন অফিসার ইমন মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি বিদ্যুৎ ও সম্পদের অননুমোদিত ব্যবহার, সরকারি স্থাপনা নির্মাণে অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্য, সরকারি গাছ বিক্রি, জ্বালানি ব্যবহারে অনিয়ম এবং অগ্নিনির্বাপণ কাজে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, স্টেশন অফিসার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত স্টেশনের ব্যারাকের মিটার থেকে তার বাসায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। এর ফলে সরকারি অর্থে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

এছাড়া স্টেশনের রান্নাঘর ও কোয়ার্টার সংক্রান্ত কাজে সরকারি স্থাপনা ও সম্পদের ক্ষতি করে ক্ষেতলাল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআই এর কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয় এবং ওই বরাদ্দের ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রকল্প পরিচালক পিআও অবাইদুর রহমানের আপন ভাই জাহিদুল ইসলাম৷ এবং সেখানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি নলকূপ ও গাছ সরিয়ে নেওয়া এবং সরকারি টিউবওয়েলের অংশ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

নিয়োগ-বাণিজ্যের বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়, তোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে বাবুর্চি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মো. আমিরুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তিকে প্রায় ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে একই পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, ২০২৬ সালের মার্চে দুর্যোগের কারণে রাস্তায় পড়ে যাওয়া একটি সরকারি গাছ উদ্ধার করে ফায়ার স্টেশনে নেওয়ার পর সেটি পরবর্তীতে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

এছাড়া অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময় দেখিয়ে জ্বালানি খাতে প্রায় এক লাখ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন এবং সরকারি জ্বালানি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ও জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব যাচাই করলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যেতে পারে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে চা-নাশতার কথা বলে টাকা চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টেশনের একাধিক কর্মচারী অভিযোগগুলোর বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানালেও চাকরির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি বলেন, অভিযোগ দেওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে চাপ প্রয়োগ করে এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা পরিশোধ করা হয়নি। তিনি বলেন, টাকা ফেরতের পাশাপাশি তিনি তার চাকরিটিও ফিরে পেতে চান।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্টেশন অফিসার ইমন মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক মঞ্জিল হকের সঙ্গে সরকারি ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগের কপি পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





সেরা/জে/এম রাসেল/আ-৫

সেরাদেশ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


ক্ষেতলাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার ইমন মিয়ার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া, সরকারি অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারে অনিয়ম, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার, নিয়োগ-বাণিজ্য এবং জ্বালানি ব্যবহারে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, উপজেলার বড় বস্তা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন দাবি করেন, ২০২৫ সালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ক্ষেতলাল ফায়ার স্টেশনে সহকারী বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে স্টেশন অফিসার ইমন মিয়া তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে কিছুদিন চাকরি করার পর বিভিন্ন অজুহাতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তার এক মাসের বেতনের টাকাও স্টেশন অফিসার নিয়ে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার প্রায় ৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগে চাকরি পুনর্বহাল ও  তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ছামছুদ্দিনের স্বাক্ষরিত আরেক অভিযোগপত্রে স্টেশন অফিসার ইমন মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি বিদ্যুৎ ও সম্পদের অননুমোদিত ব্যবহার, সরকারি স্থাপনা নির্মাণে অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্য, সরকারি গাছ বিক্রি, জ্বালানি ব্যবহারে অনিয়ম এবং অগ্নিনির্বাপণ কাজে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, স্টেশন অফিসার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত স্টেশনের ব্যারাকের মিটার থেকে তার বাসায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। এর ফলে সরকারি অর্থে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

এছাড়া স্টেশনের রান্নাঘর ও কোয়ার্টার সংক্রান্ত কাজে সরকারি স্থাপনা ও সম্পদের ক্ষতি করে ক্ষেতলাল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআই এর কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয় এবং ওই বরাদ্দের ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রকল্প পরিচালক পিআও অবাইদুর রহমানের আপন ভাই জাহিদুল ইসলাম৷ এবং সেখানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি নলকূপ ও গাছ সরিয়ে নেওয়া এবং সরকারি টিউবওয়েলের অংশ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

নিয়োগ-বাণিজ্যের বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়, তোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে বাবুর্চি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মো. আমিরুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তিকে প্রায় ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে একই পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, ২০২৬ সালের মার্চে দুর্যোগের কারণে রাস্তায় পড়ে যাওয়া একটি সরকারি গাছ উদ্ধার করে ফায়ার স্টেশনে নেওয়ার পর সেটি পরবর্তীতে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

এছাড়া অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময় দেখিয়ে জ্বালানি খাতে প্রায় এক লাখ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন এবং সরকারি জ্বালানি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ও জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব যাচাই করলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যেতে পারে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে চা-নাশতার কথা বলে টাকা চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টেশনের একাধিক কর্মচারী অভিযোগগুলোর বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানালেও চাকরির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি বলেন, অভিযোগ দেওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে চাপ প্রয়োগ করে এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা পরিশোধ করা হয়নি। তিনি বলেন, টাকা ফেরতের পাশাপাশি তিনি তার চাকরিটিও ফিরে পেতে চান।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্টেশন অফিসার ইমন মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক মঞ্জিল হকের সঙ্গে সরকারি ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগের কপি পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





সেরা/জে/এম রাসেল/আ-৫



সেরাদেশ

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম
সম্পাদক: আতোয়ার হোসেন
বার্তা সম্পাদক: তরিকুল ইসলাম।

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সেরাদেশ
ক্ষেতলাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x