ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
সেরাদেশ

পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জকসুর বিক্ষোভ,উপাচার্যকে ভোজের আমন্ত্রণ



পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জকসুর বিক্ষোভ,উপাচার্যকে ভোজের আমন্ত্রণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার নিয়মিত খাবারের তালিকায় গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করাসহ চার দফা দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনটির নেতারা। পাশাপাশি আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় গরু ভোজে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের হয়। ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান অনুষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ এবং ‘গরু খাওয়ার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। 

সমাবেশে জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা বলেন, ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে প্রশাসনের জারি করা নোটিশ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি অবিলম্বে নোটিশ প্রত্যাহার করে প্রশাসনকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শুক্রবার বাদ জুমা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গরু জবাই করে ভোজের আয়োজন করা হবে বলে ঘোষণা দেন। এ কর্মসূচিতে উপাচার্যকেও আমন্ত্রণ জানান তিনি। 

জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলেও নিষেধাজ্ঞা জারির মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনকে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার নিয়মিত মেনুতে গরু ও খাসির মাংস রাখার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 

সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে দায়ী। একটি ক্ষুদ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের উচিত ছিল নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সুষ্ঠু সমাধান করা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে নিয়ে আসা। কিন্তু তা না করে প্রশাসন একপক্ষীয়ভাবে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নেতাদের প্রশ্রয় দিয়েছে। নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তারা নিজেদের পেজ থেকে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার হুমকি দিচ্ছে।” 

তিনি আরও বলেন, “আজকে প্রশাসন তাদের সর্বোচ্চ শব্দচয়নের মাধ্যমে মুসলমানদের একধরনের ‘সফট থ্রেট’ দিয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের পশু জবাই করা যাবে না। কিন্তু তাদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসলে গরু জবাই করতে দেওয়া হবে না—এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি।” 

সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত নোটিশ প্রত্যাহার করে প্রশাসনের দুঃখপ্রকাশ; নোটিশ জারির পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করা; গত সোমবার মুক্তমঞ্চের সামনে শিক্ষার্থীদের নৈশভোজের আয়োজনকে সাম্প্রদায়িক উসকানিতে রূপ দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা। 

এ ছাড়া ক্যাম্পাসে ধর্মীয় বৈষম্য ও বিদ্বেষ নিরসনের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থান বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জকসুর নেতারা।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জকসু ও হল সংসদের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

সেরাদেশ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জকসুর বিক্ষোভ,উপাচার্যকে ভোজের আমন্ত্রণ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার নিয়মিত খাবারের তালিকায় গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করাসহ চার দফা দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনটির নেতারা। পাশাপাশি আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় গরু ভোজে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের হয়। ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান অনুষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ এবং ‘গরু খাওয়ার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। 

সমাবেশে জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা বলেন, ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে প্রশাসনের জারি করা নোটিশ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি অবিলম্বে নোটিশ প্রত্যাহার করে প্রশাসনকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শুক্রবার বাদ জুমা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গরু জবাই করে ভোজের আয়োজন করা হবে বলে ঘোষণা দেন। এ কর্মসূচিতে উপাচার্যকেও আমন্ত্রণ জানান তিনি। 

জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলেও নিষেধাজ্ঞা জারির মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনকে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার নিয়মিত মেনুতে গরু ও খাসির মাংস রাখার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 

সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে দায়ী। একটি ক্ষুদ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের উচিত ছিল নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সুষ্ঠু সমাধান করা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে নিয়ে আসা। কিন্তু তা না করে প্রশাসন একপক্ষীয়ভাবে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নেতাদের প্রশ্রয় দিয়েছে। নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তারা নিজেদের পেজ থেকে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার হুমকি দিচ্ছে।” 

তিনি আরও বলেন, “আজকে প্রশাসন তাদের সর্বোচ্চ শব্দচয়নের মাধ্যমে মুসলমানদের একধরনের ‘সফট থ্রেট’ দিয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের পশু জবাই করা যাবে না। কিন্তু তাদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসলে গরু জবাই করতে দেওয়া হবে না—এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি।” 

সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত নোটিশ প্রত্যাহার করে প্রশাসনের দুঃখপ্রকাশ; নোটিশ জারির পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করা; গত সোমবার মুক্তমঞ্চের সামনে শিক্ষার্থীদের নৈশভোজের আয়োজনকে সাম্প্রদায়িক উসকানিতে রূপ দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা। 

এ ছাড়া ক্যাম্পাসে ধর্মীয় বৈষম্য ও বিদ্বেষ নিরসনের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থান বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জকসুর নেতারা।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জকসু ও হল সংসদের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।



সেরাদেশ

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম
সম্পাদক: আতোয়ার হোসেন
বার্তা সম্পাদক: তরিকুল ইসলাম।

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সেরাদেশ
পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জকসুর বিক্ষোভ,উপাচার্যকে ভোজের আমন্ত্রণ
0:00 0:00
1.0x