বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের মিতইল গ্রামের হিন্দুপাড়া। চারদিকে সবজির সবুজ ক্ষেত। বাইরে থেকে দেখলে আর দশটি কৃষিজমির মতোই মনে হয়। কিন্তু সেই সবজির ভিটার ভেতরেই লুকিয়ে ছিল একটি বিস্ময়কর দৃশ্য।
এক অনুসন্ধানে সেরাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকরা ওই ভিটায় গিয়ে একটি গাঁজার গাছ দেখতে পান। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করেন, যাতে ঘটনাটির প্রাথমিক প্রমাণ সংরক্ষিত থাকে।
এরপর সাংবাদিকরা ওই জমির মালিক সুমন বর্মনের বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চান। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুরুতে তিনি গাছটিকে ফুলের গাছ ভেবেছিলেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন সেটি গাঁজার গাছ। তখন তিনি নাকি গাছটির একটি ডাল কেটে ফেলেন। তবে কীভাবে গাছটি সেখানে জন্মালো বা কেন পুরো গাছটি সরিয়ে ফেলা হয়নি—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সাংবাদিকরা সেখান থেকে বের হয়েই আদমদীঘি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি বদলে গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের পৌঁছানোর আগেই সুমন বর্মন গাঁজার গাছটি কেটে সরিয়ে ফেলেন এবং গোপন করে ফেলেন। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি গাঁজা চাষের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো গাঁজার গাছ বা সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মতো প্রত্যক্ষ আলামত না থাকায় পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অবৈধ মাদকজাতীয় গাছের চাষের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আলামত সংরক্ষণ ও তদন্ত আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ ও আলামত পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়—অভিযোগ যতই গুরুতর হোক, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য আলামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই আলামত নষ্ট বা সরিয়ে ফেলা হলে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়ে।