২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে রাজশাহীতে রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হওয়ার দাবি করা নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৩ নম্বর ভাবিচা ইউনিয়নের সিনড়া গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল রাকিব এবার ভাবিচা ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতৃত্বে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের ছাত্রসমাজকে আরও সুসংগঠিত করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাকিবুল রাকিব সিনড়া গ্রামের রফিকুল সোনারের ছেলে। তিনি স্নাতক পাস করেছেন। ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছেন।
রাকিবুলের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নরত অবস্থায় রাজশাহীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২০ সাল থেকে তৎকালীন সরকারবিরোধী বিভিন্ন মিছিল, সভা-সমাবেশ ও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিজ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার দায়িত্বও পালন করেন।
তিনি দাবি করেন, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাজশাহী কলেজ ছাত্রদল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে অংশগ্রহণ করেন।
রাকিবুল জানান, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে রাজশাহীর জিরো পয়েন্ট, তালাইমারী ও ভদ্রা মোড় এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৮ জুলাই ২০২৪ সকালে জিরো পয়েন্ট এলাকায় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে তালাইমারী মোড়ে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সময় একটি রাবার বুলেট তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হলে সহপাঠী ও বন্ধুদের সহযোগিতায় প্রথমে স্থানীয় একটি বাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই আঘাতের দাগ এখনও বহন করছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, জুলাই আন্দোলনের পর দেশের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হন। বর্তমানে নিয়ামতপুর উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন রাকিবুল। তিনি জানান, ভাবিচা ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ থেকে ৫৬টি গ্রাম-মহল্লায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনা এবং সমাধানে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, মাদকাসক্তি ও অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং খেলাধুলার প্রতি তরুণদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন গ্রামে ফুটবল বিতরণসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
রাকিবুল রাকিব বলেন, “ভাবিচা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পেলে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চাই।”