সুগন্ধি আতপ চাল কেজি প্রতি ৯০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এর অবৈধ মজুত, সরবরাহ, বস্তার গায়ে মিলগেট দর না লেখাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে নওগাঁয় অটো রাইস মিলগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দুটি অটো রাইস মিলকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের সাহাপুর এলাকায় অবস্থিত বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেড এবং নওগাঁ শহরের হাপানিয়া জবার মোড় এলাকায় অবস্থিত টিকে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেডে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে চাল মজুতের সঠিক তথ্য দিতে না পারায় বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ২০ হাজার টাকা এবং একই কারণে টিকে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) রুবেল আহমেদ বলেন, কয়েকদিন ধরে সুগন্ধি আতপ চালের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। বাজারে অস্বাভাবিক চালের দাম লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা কিছুদিন আগে ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি আতপ চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। বেলকন এবং টিকে গ্রুপে অভিযান চালিয়ে দেখেছি সবকিছুই নিয়মের মধ্যে রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরে নির্দেশনা রয়েছে চাল ১৫ দিনের বেশি রাখা যাবে না। বেলকন এবং টিকে গ্রুপ যে চালগুলো রেখেছে সেগুলো ১৫ দিনের বেশি কি না সে বিষয়ে তারা আমাদের সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। এ কারণে দুটি মিলকে জরিমানা করা হয়েছে।
রুবেল আহমেদ আরও বলেন, বাজারে এখন সুগন্ধি ধানের দুষ্প্রাপ্রতা রয়েছে। এ ছাড়া ধানের দাম মণপ্রতি এখন চার হাজার টাকার উপরে। এ কারণে তারা মিলগেট প্রাইস দিচ্ছেন ২০০ টাকার কাছাকাছি। যার কারণে খুচরা বাজারে ২১০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যত দিন পর্যন্ত চালের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসছে তত দিন আমাদের চালের মিল এবং বাজারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।