নওগাঁর ধামইরহাটে পুকুরে গ্যাস দেওয়া বরি খেয়ে রিমু আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (৩ আগষ্ট) রাতে আলমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই গৃহবধূ আলমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর গ্রামের ওষুধ ব্যাবস্যায়ী সেকেন্দার আলীর স্ত্রী। এই ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নিহতের স্বামী সেকেন্দার আলী বলেন, `গত সোমবার রাত আটটার দিকে স্ত্রীর অসুস্থ হওয়ার খবরটি জানার পর, দোকান থেকে বাড়িতে গিয়ে দেখি, সে অসুস্থ হয়ে খাটের উপর পড়ে আছে। কাছে এগোতেই, আমি গ্যাসের বরি খেয়েছি, হয়তোবার আর বাঁচবো না। তোমার মেয়েকে দেখে রেখো একথা বলে সে।
তিনি আরও বলেন, `এরপর রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এরপর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।`
স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা জানান, `নিহতের বাবা মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। সংসারে অশান্তির সৃষ্টি যেন না হয় সে কারণে ওই গৃহবধূ প্রায় সময় বাবা মার সঙ্গে কথা বলত। আজ মঙ্গলবার বাবা মায়ের মধ্যে ডিভোর্স হওয়ার কথা ছিল। এই বিষয়টি মেনে নিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হয়তো সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।` এ বিষয়ে তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
নিহতের মা শিউলী বেগম জানান, `গতকাল বিকেলের দিকে মেয়ে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে, মা ভালো আছিন? ভাত খাইছিন? আমি বললাম হয় ভালো আছি, ভাত খাইছি। তুমি ভাত খাইছিন? সে বলল, না আমি ভাত চৌকার উপর তুলে দিছি, রান্না হলে খাব। এই কথা বলার পর মেয়ে ফোন কেটে দেয়। তারপর আর কোন কথা হয়নি।`
মেয়ের সঙ্গে ফোনে কোন রাগারাগি হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে নিহতের মা শিউলী বেগম জানান, না, `মেয়ের সঙ্গে আমার কোন রাগারাগি হয়নি বরং সে আমার সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলেছে, আমি ভালো আছি কিনা তা জানতে চেয়েছে।`
নিহতের পিতা নুর আলম জানান, একমাত্র মেয়ে হওয়ায় তাঁর একটু রাগ বেশি ছিল। এ কারণেই হয়তো মাথা গরম করে আত্মহত্যা করেছে।
বাবা মার ওপর রাগ করে আত্মহত্যা করেছেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে নুর আলম জানান, `আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন ঝগড়াঝাঁটি হয়নি। তাছাড়া আমাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না।`
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিকেলের দিকে লাশ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ইউডি মামলা দায়েরর মাধ্যমে আগামীকাল ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ জেলায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।