পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় নাটোর জেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। কর্মসূচির আওতায় জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে মোট সাড়ে তিন হাজার গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
রোপণ করা চারাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ। শুধু চারা রোপণেই সীমাবদ্ধ না থেকে সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার জন্য এলজিইডির অধীনে কর্মরত এলসিএস (লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি) গ্রুপের মহিলা শ্রমিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন চারার সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। উপজেলার চাচকৈড় জিসি থেকে কুন্দল সড়ক, ধারাবারিষা থেকে নয়াবাজার সড়ক এবং বিলসা এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
নলডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হারুনার রশিদ জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে পরিকল্পনা অনুযায়ী ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের কাজ চলছে। বর্ষা মৌসুমের মধ্যেই নির্ধারিত সব চারা রোপণের কাজ শেষ করা হবে।
সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে দেড়শ’ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই অবশিষ্ট প্রায় সাড়ে তিনশ’ চারা রোপণ সম্পন্ন করা হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলজিইডি এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, রোপিত চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো বড় গাছে পরিণত হয়ে পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।”
এলজিইডি সূত্র জানায়, গ্রামীণ সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশের উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব গাছ স্থানীয় জনগণের জন্য ছায়া, ফল ও পরিবেশগত নানা সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।