ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
সেরাদেশ

জয়পুরহাটে কিডনি বেচাকেনা চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার



জয়পুরহাটে কিডনি বেচাকেনা চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

জয়পুরহাটের কালাইয়ে কিডনি কেনাবেচা চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তারকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানার পৌর পার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে। কিডনি কেনাবেচা সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় কালাই থানা পুলিশ গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তারকে আদালতে প্রেরণ করেন। 

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার খুকশিয়া গ্রামের আব্দুল কাফির ছেলে মন্টু মিয়া গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের আমলি ৫ নম্বর আদালতে কিডনি কেনাবেচার অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে কালাই থানায় মামলাটি এফআইআর  হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

 

মামলার এজাহারে সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটে থাকা মন্টু মিয়াকে কিডনি বিক্রির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয় এবং পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর নেপালের Marie City  Hospital-এ ভর্তি করান।

 

ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। কয়েকদিন হাসপাতালে রাখার পর তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে আসামিরা টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করেন৷ 

 

কালাই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কিডনি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

 

এই চক্রটি খুব দ্রুত তাঁদের নেটওয়ার্ক ওই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে দিয়ে সহজেই কার্য হাসিল করতো।

 

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯-এর ৯ ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। একই আইনের ১০ (১) ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি, ক্রয় বা এ কাজে সহায়তার জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

 

এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত ছিল। গত রাতে ওই চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দালাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সেরাদেশ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


জয়পুরহাটে কিডনি বেচাকেনা চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের কালাইয়ে কিডনি কেনাবেচা চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তারকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানার পৌর পার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে। কিডনি কেনাবেচা সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় কালাই থানা পুলিশ গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তারকে আদালতে প্রেরণ করেন। 

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার খুকশিয়া গ্রামের আব্দুল কাফির ছেলে মন্টু মিয়া গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের আমলি ৫ নম্বর আদালতে কিডনি কেনাবেচার অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে কালাই থানায় মামলাটি এফআইআর  হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

 

মামলার এজাহারে সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটে থাকা মন্টু মিয়াকে কিডনি বিক্রির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয় এবং পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর নেপালের Marie City  Hospital-এ ভর্তি করান।

 

ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। কয়েকদিন হাসপাতালে রাখার পর তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে আসামিরা টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করেন৷ 

 

কালাই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কিডনি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

 

এই চক্রটি খুব দ্রুত তাঁদের নেটওয়ার্ক ওই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে দিয়ে সহজেই কার্য হাসিল করতো।

 

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯-এর ৯ ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। একই আইনের ১০ (১) ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি, ক্রয় বা এ কাজে সহায়তার জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

 

এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত ছিল। গত রাতে ওই চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দালাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।


সেরাদেশ

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম
সম্পাদক: আতোয়ার হোসেন
বার্তা সম্পাদক: তরিকুল ইসলাম।

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সেরাদেশ
জয়পুরহাটে কিডনি বেচাকেনা চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার
0:00 0:00
1.0x