বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কথিত সিন্ডিকেট ও আওয়ামী লীগের দোসরদের অপসারণ করে প্রকৃত তাঁতি এবং তাঁতশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোর্ডের দায়িত্বে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বগুড়া টিটু মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল বগুড়া জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সভাপতি মো. সারোয়ার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প। আর এই শিল্পের সঙ্গে তাঁতশিল্পের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দেশের তাঁতশিল্পকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে প্রয়োজনীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, তাঁতশিল্পে এখনো যারা পুরোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগী ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের অপসারণ করে প্রকৃত তাঁতি এবং তাঁতশিল্প সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে আনতে হবে। তাঁতশিল্পের উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ-উন-নবী সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য জয়নাল আবেদীন চাঁন, বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুর বারী তালুকদার বেলাল এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব হাজী মো. মজিবুর রহমানসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানুষের পরিহিত পোশাক তৈরির পেছনে তাঁতিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাঁতিরা ন্যায্য মূল্যে সুতা, রংসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ পাচ্ছেন না। বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে তাঁতিদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, “তাঁত বোর্ডকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। প্রকৃত তাঁতি, তাঁত সমিতি এবং তাঁতশিল্প সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বোর্ডের দায়িত্বে আনতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর তাঁতিরা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এখন আর তাঁতিদের দূরে সরিয়ে রাখার সুযোগ নেই।”
সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সরদার ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আজাদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী মুন্সিসহ জেলা তাঁতী দলের নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে বক্তারা গত ১৭ বছরে তাঁতিদের ওপর অবহেলা, বঞ্চনা, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তাঁতী দলকে একটি সুসংগঠিত সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বক্তারা বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, ন্যায্যমূল্যে কাঁচামাল সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁতশিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে টেকসই সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সম্মেলনে বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। পরে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া ও মোনাজাত শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বগুড়া জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।