ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সেরাদেশ

নিউজ নয়, শুধু বিজ্ঞাপন চায় কিছু মিডিয়া হাউজ



নিউজ নয়, শুধু বিজ্ঞাপন চায় কিছু মিডিয়া হাউজ
লেখকের ফটো।

সাংবাদিকতার হাতেখড়িতে সংবাদ লেখার চেয়ে বিজ্ঞাপন সংগ্রহই কি এখন বড় যোগ্যতা?


এটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ। কোনো সাংবাদিক বা মিডিয়া হাউজকে আঘাত, হেয় বা কষ্ট দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। নিজের দেখা ও অনুভব করা কিছু কথা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা মাত্র।

নিউজ, নিউজ আর নিউজ—শুরুর দিকে এভাবেই কেটে যেত সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা। কারণ, নতুন নতুন দু-এক লাইন করে সংবাদ লিখতে পারতাম। কখন যে ঘড়ির কাঁটা রাত একটা-দুটো ছুঁয়ে ফেলত, টেরই পেতাম না। পাশে থাকা মানুষটি ততক্ষণে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

মাঝেমধ্যে শুনতে পেতাম— “কাজ কি শেষ হলো না, নাকি সবে শুরু?”

কথাটার মধ্যে কিছুটা ব্যঙ্গ, আবার কিছুটা ভালোবাসাও মিশে থাকত। খুব ভালো করে শুনতাম না। জানতাম, নিদ্রাদেবী সবার চোখে ভর করেছে। আমার কাছেও আসতে চায়। কিন্তু কী এক ভালো লাগায় যেন সে কাছে ঘেঁষতে পারত না। এভাবেই নির্ঘুম কেটে যেত অনেক রাত।

এরপর একদিন একটি মিডিয়া হাউজে সিভি পাঠালাম। পরদিন ফোন করতেই ওপাশ থেকে বলা হলো—

“আরে আপনি! দেখুন ভাই, আমাদের হাউজের সঙ্গে কাজ করবেন—ভালো কথা। তবে আমাদের কিছু নিয়ম আছে। যেমন, বড় বাজেটের বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতে হবে। বিজ্ঞাপন থেকে আপনিও বেতন পাবেন, আমরাও পত্রিকা চালাতে পারব।”

আমি বললাম, “আসলে আমি নতুন। আমাকে একটু সুযোগ দিন। ভালো মানের নিউজ করতে কিছুটা সময় তো লাগবেই।”

ওপাশ থেকে উত্তর এলো—

“আসলে নিউজ কিছু না। আপনার এলাকার নিউজ আমরাই করে দেব। আপনি শুধু বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করুন। ব্যস—তাহলেই আপনি আমাদের পত্রিকার সাংবাদিক।”

এরপর আরও শুনতে হলো—

“আরে ভাই, আপনারা যা লেখেন, তা কি পত্রিকায় ছাপানো সম্ভব? অনেক বানান ভুল, তথ্যের ঠিক নেই। ওই নিউজ এডিট করতে গেলেই আমাদের আধঘণ্টা লাগে। আমাদের আরও নিউজ আছে না?”

শেষ কথাটাও ছিল বেশ স্পষ্ট—

“বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতে না পারলে আমাদের বিরক্ত করবেন না।”

সেদিন কথাগুলো খুব কষ্ট দিয়েছিল।

সাংবাদিকতা তো একটি সৃষ্টিশীল পেশা। একজন নতুন সাংবাদিককে বিজ্ঞাপন সংগ্রহের চেয়ে নিজের লেখনীকে আরও শক্ত ও পরিণত করার পরামর্শ দেওয়ার কথা। কোথায় ভুল হচ্ছে, কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে একটি সংবাদকে পাঠযোগ্য ও নির্ভুল করা যায়—এসব শেখানোর কথা।

কিন্তু বাস্তবতা অনেক জায়গায় যেন উল্টো।

আপনি বিজ্ঞাপন দেবেন, বিনিময়ে হাউজ আপনার সংবাদ ছাপবে। একজন মফস্বল সাংবাদিক সারাদিন তথ্য সংগ্রহ করবেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন, তথ্য যাচাই করবেন, তারপর রাত জেগে সংবাদ লিখবেন—কিন্তু বিজ্ঞাপন দিতে না পারলে সেই শ্রমের মূল্যই যেন থাকে না।

তাহলে কি নতুন সাংবাদিক হতে হলে সাংবাদিকতার আগে বিজ্ঞাপন সংগ্রহের প্রশিক্ষণ নিতে হবে?

যদি এমন সংস্কৃতি চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধীরে ধীরে এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। একসময় সাংবাদিকতার পরিচয় কি হয়ে যাবে—সংবাদদাতা নয়, বিজ্ঞাপনদাতা?

হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। গতরাতে সিভি দেওয়া একটি পত্রিকা হাউজের কথা ভেবেই আমার ঘুম আসেনি। অথচ বাস্তবতা তখন আমার কাছে কাঁচের মতো স্বচ্ছ হয়ে উঠেছিল।

মনে হচ্ছিল, রাত পেরোলেই হয়তো লেখার সুযোগ পাব। হয়তো কেউ বলবে—“এসো, কাজ শেখো। ভুল হলে আমরা ঠিক করে দেব।”

কিন্তু না।

নিদ্রাহীন একটি রাত শুধু দীর্ঘশ্বাস হয়েই রয়ে গেল। বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধুকপুক করছিল। বারবার মনে হচ্ছিল—যেখানে নিউজের চেয়ে বিজ্ঞাপনের মূল্য বেশি, সেখানে সৃষ্টিশীল সাংবাদিকতা শেখার সুযোগ চাওয়ার মূল্যই বা কতটুকু?

চার মাস পেরিয়ে গেছে। অনেক হাউজে সিভি জমা দিয়েছি। ভেবেছি, যদি কখনো ডাক আসে। কিন্তু এখনো আসেনি।

নিজেরও দুর্বলতা আছে—এটা আমি স্বীকার করি। তবে দুটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে এবং নিয়মিত যোগাযোগও করছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমের একটি বড় সুবিধা হলো—বিজ্ঞাপন সংগ্রহের চাপ তুলনামূলক কম এবং সংবাদ মুহূর্তেই প্রকাশ করা যায়।

তবে এখানেও একটি দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তথ্য যাচাই।

একটি ভুল তথ্য মুহূর্তেই হাজারো, এমনকি লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তাই অনলাইন পোর্টালের সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

“নির্ভুল তথ্য, সংবাদ সবার আগে”—এই নীতিই হওয়া উচিত অনলাইন সাংবাদিকতার অন্যতম মূলমন্ত্র।

তবে আমার কাছে একটি পত্রিকা এখনো সাংবাদিকতা শেখার আতুড়ঘর। ছাপা পত্রিকার স্পর্শ, কাগজের গন্ধ—এসবের মধ্যে এক ধরনের আলাদা অনুভূতি আছে। হাতে একটি পত্রিকা নিয়ে নিজের লেখা দেখার আনন্দই হয়তো একজন নতুন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

যদিও বাস্তবতা হলো—আমি এখনো কোনো পত্রিকায় কাজের সুযোগ পাইনি।

আমার দেখা অনেক সাংবাদিক আছেন, যারা নিজের নামটিও ল্যাপটপে ঠিকমতো লিখতে পারেন না। অন্য কেউ তার হয়ে নিউজ তৈরি করে দেন। কেউ কেউ আবার নিয়মিত কার্বন কপি বা অন্যের তৈরি সংবাদনির্ভর। এরপরও তারা বড় বড় মিডিয়া হাউজের সাংবাদিক।

এ কথা আমি কোনো শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক বা সহকর্মীকে ছোট করার জন্য বলছি না। বরং আমার উপলব্ধি হলো—তারা হয়তো এমন একটি দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা আমি এখনো পারিনি।

তারা বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতে পারেন। আমি পারি সংবাদ সংগ্রহ করতে।

সময়ের সঙ্গে সংবাদমাধ্যম বদলে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন হাতের মুঠোয় সংবাদ। একটি মাত্র ক্লিকেই কাঙ্ক্ষিত সংবাদ পাওয়া যায়। পত্রিকা হাতে পাওয়ার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মুহূর্তেই একটি সংবাদ হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অনেক সংবাদ দেখে আতকে উঠি। ভাবি—এগুলো দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিখবে?

আবার অনেক সংবাদ আমাকে অনুপ্রাণিতও করে। মনে হয়—

এমন সংবাদই তো করতে চাই।

এমন সংবাদই করতে হবে।

হ্যাঁ, এটাই করব।

কারণ, সাংবাদিকতা আমার কাছে শুধু একটি চাকরি নয়। এটি মানুষের কথা বলার সুযোগ, সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব এবং সমাজের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা।

বিজ্ঞাপন হয়তো একটি সংবাদমাধ্যমকে টিকিয়ে রাখে, কিন্তু সত্য ও নির্ভুল সংবাদই একটি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে।

আর একজন নতুন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—একটি সুযোগ।

বিজ্ঞাপন সংগ্রহের সুযোগ নয়, সংবাদ লেখার সুযোগ।

নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। ভুল থেকে শেখার সুযোগ। সাংবাদিক হয়ে ওঠার সুযোগ।

সেরাদেশ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


নিউজ নয়, শুধু বিজ্ঞাপন চায় কিছু মিডিয়া হাউজ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাংবাদিকতার হাতেখড়িতে সংবাদ লেখার চেয়ে বিজ্ঞাপন সংগ্রহই কি এখন বড় যোগ্যতা?


এটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ। কোনো সাংবাদিক বা মিডিয়া হাউজকে আঘাত, হেয় বা কষ্ট দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। নিজের দেখা ও অনুভব করা কিছু কথা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা মাত্র।



নিউজ, নিউজ আর নিউজ—শুরুর দিকে এভাবেই কেটে যেত সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা। কারণ, নতুন নতুন দু-এক লাইন করে সংবাদ লিখতে পারতাম। কখন যে ঘড়ির কাঁটা রাত একটা-দুটো ছুঁয়ে ফেলত, টেরই পেতাম না। পাশে থাকা মানুষটি ততক্ষণে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

মাঝেমধ্যে শুনতে পেতাম— “কাজ কি শেষ হলো না, নাকি সবে শুরু?”

কথাটার মধ্যে কিছুটা ব্যঙ্গ, আবার কিছুটা ভালোবাসাও মিশে থাকত। খুব ভালো করে শুনতাম না। জানতাম, নিদ্রাদেবী সবার চোখে ভর করেছে। আমার কাছেও আসতে চায়। কিন্তু কী এক ভালো লাগায় যেন সে কাছে ঘেঁষতে পারত না। এভাবেই নির্ঘুম কেটে যেত অনেক রাত।

এরপর একদিন একটি মিডিয়া হাউজে সিভি পাঠালাম। পরদিন ফোন করতেই ওপাশ থেকে বলা হলো—

“আরে আপনি! দেখুন ভাই, আমাদের হাউজের সঙ্গে কাজ করবেন—ভালো কথা। তবে আমাদের কিছু নিয়ম আছে। যেমন, বড় বাজেটের বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতে হবে। বিজ্ঞাপন থেকে আপনিও বেতন পাবেন, আমরাও পত্রিকা চালাতে পারব।”

আমি বললাম, “আসলে আমি নতুন। আমাকে একটু সুযোগ দিন। ভালো মানের নিউজ করতে কিছুটা সময় তো লাগবেই।”

ওপাশ থেকে উত্তর এলো—

“আসলে নিউজ কিছু না। আপনার এলাকার নিউজ আমরাই করে দেব। আপনি শুধু বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করুন। ব্যস—তাহলেই আপনি আমাদের পত্রিকার সাংবাদিক।”

এরপর আরও শুনতে হলো—

“আরে ভাই, আপনারা যা লেখেন, তা কি পত্রিকায় ছাপানো সম্ভব? অনেক বানান ভুল, তথ্যের ঠিক নেই। ওই নিউজ এডিট করতে গেলেই আমাদের আধঘণ্টা লাগে। আমাদের আরও নিউজ আছে না?”

শেষ কথাটাও ছিল বেশ স্পষ্ট—

“বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতে না পারলে আমাদের বিরক্ত করবেন না।”

সেদিন কথাগুলো খুব কষ্ট দিয়েছিল।

সাংবাদিকতা তো একটি সৃষ্টিশীল পেশা। একজন নতুন সাংবাদিককে বিজ্ঞাপন সংগ্রহের চেয়ে নিজের লেখনীকে আরও শক্ত ও পরিণত করার পরামর্শ দেওয়ার কথা। কোথায় ভুল হচ্ছে, কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে একটি সংবাদকে পাঠযোগ্য ও নির্ভুল করা যায়—এসব শেখানোর কথা।

কিন্তু বাস্তবতা অনেক জায়গায় যেন উল্টো।

আপনি বিজ্ঞাপন দেবেন, বিনিময়ে হাউজ আপনার সংবাদ ছাপবে। একজন মফস্বল সাংবাদিক সারাদিন তথ্য সংগ্রহ করবেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন, তথ্য যাচাই করবেন, তারপর রাত জেগে সংবাদ লিখবেন—কিন্তু বিজ্ঞাপন দিতে না পারলে সেই শ্রমের মূল্যই যেন থাকে না।

তাহলে কি নতুন সাংবাদিক হতে হলে সাংবাদিকতার আগে বিজ্ঞাপন সংগ্রহের প্রশিক্ষণ নিতে হবে?

যদি এমন সংস্কৃতি চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধীরে ধীরে এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। একসময় সাংবাদিকতার পরিচয় কি হয়ে যাবে—সংবাদদাতা নয়, বিজ্ঞাপনদাতা?

হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। গতরাতে সিভি দেওয়া একটি পত্রিকা হাউজের কথা ভেবেই আমার ঘুম আসেনি। অথচ বাস্তবতা তখন আমার কাছে কাঁচের মতো স্বচ্ছ হয়ে উঠেছিল।

মনে হচ্ছিল, রাত পেরোলেই হয়তো লেখার সুযোগ পাব। হয়তো কেউ বলবে—“এসো, কাজ শেখো। ভুল হলে আমরা ঠিক করে দেব।”

কিন্তু না।

নিদ্রাহীন একটি রাত শুধু দীর্ঘশ্বাস হয়েই রয়ে গেল। বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধুকপুক করছিল। বারবার মনে হচ্ছিল—যেখানে নিউজের চেয়ে বিজ্ঞাপনের মূল্য বেশি, সেখানে সৃষ্টিশীল সাংবাদিকতা শেখার সুযোগ চাওয়ার মূল্যই বা কতটুকু?

চার মাস পেরিয়ে গেছে। অনেক হাউজে সিভি জমা দিয়েছি। ভেবেছি, যদি কখনো ডাক আসে। কিন্তু এখনো আসেনি।

নিজেরও দুর্বলতা আছে—এটা আমি স্বীকার করি। তবে দুটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে এবং নিয়মিত যোগাযোগও করছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমের একটি বড় সুবিধা হলো—বিজ্ঞাপন সংগ্রহের চাপ তুলনামূলক কম এবং সংবাদ মুহূর্তেই প্রকাশ করা যায়।

তবে এখানেও একটি দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তথ্য যাচাই।

একটি ভুল তথ্য মুহূর্তেই হাজারো, এমনকি লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তাই অনলাইন পোর্টালের সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

“নির্ভুল তথ্য, সংবাদ সবার আগে”—এই নীতিই হওয়া উচিত অনলাইন সাংবাদিকতার অন্যতম মূলমন্ত্র।

তবে আমার কাছে একটি পত্রিকা এখনো সাংবাদিকতা শেখার আতুড়ঘর। ছাপা পত্রিকার স্পর্শ, কাগজের গন্ধ—এসবের মধ্যে এক ধরনের আলাদা অনুভূতি আছে। হাতে একটি পত্রিকা নিয়ে নিজের লেখা দেখার আনন্দই হয়তো একজন নতুন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

যদিও বাস্তবতা হলো—আমি এখনো কোনো পত্রিকায় কাজের সুযোগ পাইনি।

আমার দেখা অনেক সাংবাদিক আছেন, যারা নিজের নামটিও ল্যাপটপে ঠিকমতো লিখতে পারেন না। অন্য কেউ তার হয়ে নিউজ তৈরি করে দেন। কেউ কেউ আবার নিয়মিত কার্বন কপি বা অন্যের তৈরি সংবাদনির্ভর। এরপরও তারা বড় বড় মিডিয়া হাউজের সাংবাদিক।

এ কথা আমি কোনো শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক বা সহকর্মীকে ছোট করার জন্য বলছি না। বরং আমার উপলব্ধি হলো—তারা হয়তো এমন একটি দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা আমি এখনো পারিনি।

তারা বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতে পারেন। আমি পারি সংবাদ সংগ্রহ করতে।

সময়ের সঙ্গে সংবাদমাধ্যম বদলে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন হাতের মুঠোয় সংবাদ। একটি মাত্র ক্লিকেই কাঙ্ক্ষিত সংবাদ পাওয়া যায়। পত্রিকা হাতে পাওয়ার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মুহূর্তেই একটি সংবাদ হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অনেক সংবাদ দেখে আতকে উঠি। ভাবি—এগুলো দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিখবে?


আবার অনেক সংবাদ আমাকে অনুপ্রাণিতও করে। মনে হয়—


এমন সংবাদই তো করতে চাই।

এমন সংবাদই করতে হবে।

হ্যাঁ, এটাই করব।

কারণ, সাংবাদিকতা আমার কাছে শুধু একটি চাকরি নয়। এটি মানুষের কথা বলার সুযোগ, সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব এবং সমাজের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা।

বিজ্ঞাপন হয়তো একটি সংবাদমাধ্যমকে টিকিয়ে রাখে, কিন্তু সত্য ও নির্ভুল সংবাদই একটি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে।


আর একজন নতুন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—একটি সুযোগ।


বিজ্ঞাপন সংগ্রহের সুযোগ নয়, সংবাদ লেখার সুযোগ।

নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। ভুল থেকে শেখার সুযোগ। সাংবাদিক হয়ে ওঠার সুযোগ।


সেরাদেশ

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম
সম্পাদক: আতোয়ার হোসেন
বার্তা সম্পাদক: তরিকুল ইসলাম।

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সেরাদেশ
নিউজ নয়, শুধু বিজ্ঞাপন চায় কিছু মিডিয়া হাউজ
0:00 0:00
1.0x