বগুড়া শহরের যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। এরই অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা ও আশপাশের এলাকায় ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় অবৈধভাবে পার্কিং করা দুটি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানান বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযানের সফলতা ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিটি কর্পোরেশন সবেমাত্র যানজট নিরসনে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে যানজট সৃষ্টি করছেন, তাদের সরে যেতে বলা হচ্ছে। প্রথমে মানুষকে সচেতন করা হবে। এরপরও আইন অমান্য করলে অবশ্যই আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে। মামলা করাই কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাই প্রথমে নগরবাসীকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বারবার সতর্ক করার পরও কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে অভিযানের পরিধিও বাড়ানো হবে। যত্রতত্র বড় গাড়ি পার্কিং করলেও মামলা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শহরের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী করতোয়া গেটলক বাস বন্ধ বা রুট পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাসের রুট পরিবর্তনের বিষয়ে বিআরটিএকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যানজট নিরসনে কার্যকর সমাধান বের হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় দুই দফা করে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা গেলে শহরের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিটি কর্পোরেশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ নগরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, নিয়মিত নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করা গেলে বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের যানজট ও জনভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।