ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
সেরাদেশ

সকল খু/ন,ধ/র্ষ/ণ,নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত ও নারী-পুরুষের সমানাধিকারের দাবিতে

নারী নির্যাতন প্রতিরোধের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন



নারী নির্যাতন প্রতিরোধের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন
ছবি: প্রতিনিধি

নারী নির্যাতন প্রতিরোধের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

২৪ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ৫টায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (ইয়াসমিন হত্যা) দিবস উপলক্ষে সাতমাথায় নারী নির্যাতন বন্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবানে,  সম্পত্তিতে সমান অধিকার ও সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার দাবিতে ও রংপুরের হত্যাকান্ডসহ সকল খুন-ধর্ষণ-নির্যাতনের  বিচারের  দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মানববন্ধন-সমাবেশ-মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।  সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. দিলরুবা নূরী।  সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলার আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা সহ-সভাপতি অ্যাড. রাধা রানী বর্মন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা দফতর সম্পাদক মঞ্জুয়ারা বেগম, অর্থ সম্পাদক নিয়তি সরকার নিতু, শাহনাজ মুন্নি প্রমুখ।

বক্তারা বলেনর, ১৯৯৫ সালের ২৪  আগস্ট গৃহকর্মী ইয়াসমিন ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাওয়ার উদ্দেশ্য রওনা হলে ভুল গাড়িতে উঠে ভুল জায়গায় নেমে পড়ে। পরবর্তীতে একটি পুলিশের গাড়ি সেখানে আসে এবং ইয়াসমিন কে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে টহল গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। পরে সেই পুলিশরা ইয়াসমিনকে ধর্ষন এবং হত্যা করে লাশ গোবিন্দপুরে ফেলে চলে যায়।  এর প্রতিবাদে দিনাজপুরের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিপ্রেক্ষিতে বিশাল জনতার অভ্যুত্থান ঘটে,পুলিশের গুলিতে ৭ জন মানুষ প্রাণ দেয়। জনতার প্রতিরোধের মুখে এই ঘটনার বিচার হয় ও ২০০৪ সালে তিন জন পুলিশকে ফাঁসি দেওয়া হয়। আজও আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন চলছে এবং কোনো বিচার হচ্ছে না। ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে নারী ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৩১৯টি, বলাৎকারের সংখ্যা ৩৪ টি, ধর্ষণের পর হত্যা ৩৩ টি,  আর নারী নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ১৬২১টি। ২০১৫ সালে তনু ধর্ষণ ও হত্যার আজ ও বিচার হয়নি। আজ হাইকোর্টে নুসরাত হত্যার রায় হলো ৭ বছর পর। বিচারহীনতা ও বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধকে বাড়িয়ে তুলছে। এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে রুপা, আফসানা, আছিয়া, রামিসাসহ আরও অজস্র নাম। বক্তারা ইয়াসমিন হত্যা দিবসে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে নারী নির্যাতন বন্ধে জনগণকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। একইসাথে তারা নারীর অবাধে চলাচলের উপর মৌলবাদী আগ্রাসন রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান এবং নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেন। সাইবার নিপীড়নও নারীর ওপর  ভয়াবহরকম বৃদ্ধি পেয়েছে, একই সাথে নারী বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড মারাত্মক রুপ নিয়েছে। বাল্য বিবাহ ৫৯ %।  বক্তারা নারীদের প্রতি সমমর্যাদার দৃষ্টিভঙ্গি, নারীদের সম্পত্তিতে সমান অধিকার ও সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা আরো বলেন সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর জেলায় ঘটে যাওয়া গণপতি চক্রবর্ত্তী ও তার পরিবারকে নৃশংস কায়দায় নিজ বাড়িতে ঢুকে হত্যা করা হয়। এটা. আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির পরিচায়ক। বক্তারা অবিলম্বে এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সেরাদেশ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


নারী নির্যাতন প্রতিরোধের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নারী নির্যাতন প্রতিরোধের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

২৪ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ৫টায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (ইয়াসমিন হত্যা) দিবস উপলক্ষে সাতমাথায় নারী নির্যাতন বন্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবানে,  সম্পত্তিতে সমান অধিকার ও সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার দাবিতে ও রংপুরের হত্যাকান্ডসহ সকল খুন-ধর্ষণ-নির্যাতনের  বিচারের  দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মানববন্ধন-সমাবেশ-মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।  সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. দিলরুবা নূরী।  সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলার আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা সহ-সভাপতি অ্যাড. রাধা রানী বর্মন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা দফতর সম্পাদক মঞ্জুয়ারা বেগম, অর্থ সম্পাদক নিয়তি সরকার নিতু, শাহনাজ মুন্নি প্রমুখ।

বক্তারা বলেনর, ১৯৯৫ সালের ২৪  আগস্ট গৃহকর্মী ইয়াসমিন ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাওয়ার উদ্দেশ্য রওনা হলে ভুল গাড়িতে উঠে ভুল জায়গায় নেমে পড়ে। পরবর্তীতে একটি পুলিশের গাড়ি সেখানে আসে এবং ইয়াসমিন কে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে টহল গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। পরে সেই পুলিশরা ইয়াসমিনকে ধর্ষন এবং হত্যা করে লাশ গোবিন্দপুরে ফেলে চলে যায়।  এর প্রতিবাদে দিনাজপুরের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিপ্রেক্ষিতে বিশাল জনতার অভ্যুত্থান ঘটে,পুলিশের গুলিতে ৭ জন মানুষ প্রাণ দেয়। জনতার প্রতিরোধের মুখে এই ঘটনার বিচার হয় ও ২০০৪ সালে তিন জন পুলিশকে ফাঁসি দেওয়া হয়। আজও আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন চলছে এবং কোনো বিচার হচ্ছে না। ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে নারী ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৩১৯টি, বলাৎকারের সংখ্যা ৩৪ টি, ধর্ষণের পর হত্যা ৩৩ টি,  আর নারী নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ১৬২১টি। ২০১৫ সালে তনু ধর্ষণ ও হত্যার আজ ও বিচার হয়নি। আজ হাইকোর্টে নুসরাত হত্যার রায় হলো ৭ বছর পর। বিচারহীনতা ও বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধকে বাড়িয়ে তুলছে। এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে রুপা, আফসানা, আছিয়া, রামিসাসহ আরও অজস্র নাম। বক্তারা ইয়াসমিন হত্যা দিবসে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে নারী নির্যাতন বন্ধে জনগণকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। একইসাথে তারা নারীর অবাধে চলাচলের উপর মৌলবাদী আগ্রাসন রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান এবং নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেন। সাইবার নিপীড়নও নারীর ওপর  ভয়াবহরকম বৃদ্ধি পেয়েছে, একই সাথে নারী বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড মারাত্মক রুপ নিয়েছে। বাল্য বিবাহ ৫৯ %।  বক্তারা নারীদের প্রতি সমমর্যাদার দৃষ্টিভঙ্গি, নারীদের সম্পত্তিতে সমান অধিকার ও সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা আরো বলেন সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর জেলায় ঘটে যাওয়া গণপতি চক্রবর্ত্তী ও তার পরিবারকে নৃশংস কায়দায় নিজ বাড়িতে ঢুকে হত্যা করা হয়। এটা. আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির পরিচায়ক। বক্তারা অবিলম্বে এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।


সেরাদেশ

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম
সম্পাদক: আতোয়ার হোসেন
বার্তা সম্পাদক: তরিকুল ইসলাম।

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সেরাদেশ
নারী নির্যাতন প্রতিরোধের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন
0:00 0:00
1.0x