ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
দিবসের শুরুতে কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘর থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি দুর্গাপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘরে এসে শেষ হয়। এ সময় "চাষার ছেলে শিক্ষা চাই, দুর্গাপুরে অনার্স চাই", "শিক্ষাঙ্গনে সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে" প্রভৃতি বিভিন্ন দাবি সংবলিত স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
র্যালি-পরবর্তী সময়ে সাইমন মিয়ার সভাপতিত্বে এবং রমজান মিয়ার সঞ্চালনায় একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেত্রকোনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি কমরেড আলকাস উদ্দিন মীর, সাবেক ছাত্রনেতা কমরেড শামসুল আলম খান, কমরেড রুপন কুমার সরকার, কমরেড মোরশেদ আলম, কমরেড রমজান আলী সরকার, কমরেড নূর আলম খান, কমরেড জহির রায়হান, ক্ষেত মজুর সমিতির সভাপতি কমরেড আজিম উদ্দিন, আদিবাসী নেতা অবনী কান্ত হাজং।
এছাড়াও সভায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষা দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেন, ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন আইয়ুব খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতি ও শরীফ কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ রাজপথে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ নাম না জানা অনেকেই। তাদের সেই রক্তের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছিল ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস।
বক্তারা বর্তমান সময়ে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সর্বগ্রাসী বৈষম্য রোধে ১৯৬২ সালের চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এবং শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।