বগুড়ায় জেলা জজ নিয়োগকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ, তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টির পেছনে বগুড়া বারের পিপি-জিপিপন্থী আইনজীবীদের ভূমিকা রয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বগুড়ায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে জেলা জজের পদ শূন্য ছিল। ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। দীর্ঘদিনের এই সংকটের পর সরকার সরকারি আদেশের (জিও) মাধ্যমে একজন জেলা জজ নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু তাঁকে কেন্দ্র করে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, জেলা জজ নিয়োগের সরকারি আদেশ জারির পর বগুড়া বার সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দুজন সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। তাঁর দাবি, বার সমিতির নির্বাহী কমিটির সভা কিংবা সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া আইনবিরোধী।
তিনি আরও বলেন, পিপি-জিপিপন্থী আইনজীবীরা নতুন জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছেন। যদিও তাঁরা বাধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছেন বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সিনিয়র আইনজীবীদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। অথচ তাঁদের কর্মকাণ্ডে জুনিয়রদের মতো আচরণের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
আব্দুল ওহাব সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, বগুড়ার ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় আদালতের অচলাবস্থা এবং সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বগুড়া বার সমিতির উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী বার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বগুড়া বার সমিতি, পিপি ও জিপিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।