জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সংস্কৃতি সম্পাদক তাকরিম আহমেদের সঙ্গে পুলিশের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হেনস্তার শিকারের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন রাত ৮টার দিকে পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তাকরিমের দাবি, চশমার ফ্রেম কিনতে পাটুয়াটুলীর দিকে যাওয়ার সময় রাস্তার বিপরীত পাশে থাকা পুলিশের একটি গাড়ি রাস্তা খালি থাকা সত্ত্বেও বারবার হর্ন দিচ্ছিল। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের কাছে রাস্তা খালি থাকা অবস্থায় কেন হর্ন বাজানো হচ্ছে, তা জানতে চান।
তাকরিম বলেন, প্রশ্ন করার পর পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থেকে নেমে তার দিকে তেরে আসেন এবং তিনি কেন এ প্রশ্ন করেছেন, এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিভিল পোশাকে পুলিশের এক সেকেন্ড অফিসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে আসেন। তার অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা ঘটনাটি বিস্তারিত না জেনেই তাকে থানায় যেতে বলেন।
তাকরিমের ভাষ্য, “তখন মাথা গরম হয়ে যায়। আমি চিল্লাচিল্লি করি। একপর্যায়ে তারা জানতে পারে আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তখন বলা হয়, জগন্নাথ দেখার টাইম নাই, থানায় নিয়া চলেন।”
তিনি আরও জানান, “এ কথা শোনার পর আমিও উত্তেজিত হয়ে একপর্যায়ে পুলিশের উদ্দেশে অশালীন আচরণ করি।” পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানেই ঘটনার সমাপ্তি ঘটে।
তাকরিম আরও জানান, পরে তিনি নিজেই থানায় যান একা। কিছুক্ষণ পর ডিউটি অফিসার এসে তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা শোনেন। তার দাবি, ঘটনা শোনার পর ওই কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাকে চায়ের প্রস্তাব দেন।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার ডিউটি অফিসার মো. টুটুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “মূলত গাড়ির হর্ন বাজানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। ঘটনায় দুইপক্ষই উচ্চবাচ্য করেন। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানতে পেরে দুই পক্ষের সমাধান করে মিলমিশ করে দেয়া হয়েছে।”
ঘটনায় সিভিল পোশাকে আসা অভিযুক্ত অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করার পর তিনি জানান, “অযথাই কাউকে থানায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। উনার সাথে আমাদের একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়, পরবর্তীতে উনি নিজেই থানায় এসেছিলেন এবং বিষয়টি আমাদের মধ্যে সমাধান হয়ে যায়।”