নাটোরে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মাত্র একদিনে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন। এর মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ এবং ৪৭ জন নারী ও শিশু। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে চাপ তৈরি হয়েছে হাসপাতালটিতে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে স্বজনদের ভিড়। কেউ রোগীকে নিয়ে আসছেন, কেউ স্যালাইন হাতে অপেক্ষা করছেন। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগেও দেখা দিয়েছে অতিরিক্ত রোগীর চাপ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ১০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, নারী ও পুরুষ—সব বয়সী মানুষ রয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় একটি অংশ নাটোর পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দা। বিশেষ করে কানাইখালী, কান্দিভিটা, চকরামপুর, পটুয়াপাড়া, রামাইগাছি ও বড় হরিশপুর এলাকার রোগীর সংখ্যা বেশি।
রোগীদের স্বজনরা জানান, অনেকের হঠাৎ করে পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। প্রথমে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হচ্ছে।
এক রোগী শিউলি বেগম বলেন, “হঠাৎ করেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখি অনেক রোগী ভর্তি। চিকিৎসা চলছে, তবে রোগীর চাপ অনেক বেশি।”
আরেক রোগীর কান্দিভিটা আব্দুল রহমান জানান, “বাড়িতে প্রথমে পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। পরে অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি।”
চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তন, দূষিত পানি ও অনিরাপদ খাবারের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে এ সময়ে বিশুদ্ধ পানি পান এবং খাবার গ্রহণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
নাটোরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, “রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ায় আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বিশুদ্ধ পানি পান, বাসি ও খোলা খাবার এড়িয়ে চলা, খাবারের আগে ও পরে ভালোভাবে হাত ধোয়া এবং ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।