নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক ও জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত এবং প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত ‘তোমার অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলজ সম্পদ রক্ষা ও কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আমাদের আজকের এই আয়োজন প্রকৃতি, কৃষক ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের এক সম্মিলিত প্রয়াস। আমরা বিশ্বাস করি, একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নে নয়, বরং পরিবেশের সুরক্ষা, কৃষকের মর্যাদা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়।”
তিনি বলেন, “বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়া, মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষি উপহার বিতরণের মাধ্যমে কৃষকের শ্রম ও অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর চেষ্টা করেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আমাদের এই উদ্যোগ।”
তরুণ সমাজকে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মেহেদী হাসান বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা, তরুণ সমাজ শুধু স্বপ্ন দেখবে না, বরং মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবে। একটি সবুজ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়েই আমাদের এই আয়োজন।”
জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, “বাঙালির হাজার বছরের শৃঙ্খলমুক্তির সংগ্রামের সমস্ত সাহসের সম্মিলিত উচ্চারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ‘তোমার অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, লেক ও জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত এবং প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপহার বিতরণের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়েছে।”
প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, “জননেত্রী শেখ হাসিনা সবসময় গরিব ও মেহনতি মানুষের কথা ভাবতেন। বর্তমানে প্রান্তিক কৃষকেরা সার সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নির্দেশনায় প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মানি—কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। কোনো বাধা, নিষেধ বা মিথ্যা মামলা দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যক্রম আটকে রাখা যাবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এই জনকল্যাণমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে।”
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।