বিয়ে বা পাত্রী দেখার কথা বলে ডেকে এনে প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে এক নারীর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণের পর ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জাকারিয়া (৩৮) নামের এক মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁর মান্দা থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, জাকারিয়া একজন পেশাদার প্রতারক; তিনি কখনো পুলিশ, কখনো বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় দিয়ে অথবা ‘হানি ট্র্যাপ’ পেতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ভুক্তভোগী ব্যক্তির লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধিতে মামলা করার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা মীর মো. আনোয়ার হোসেনের (৬২) ছেলের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে তাঁর পূর্বপরিচিত এক নারী ডেকে নিয়ে যান। গত ৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জাকারিয়ার নির্দেশে ওই প্রবীণকে মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বসতবাড়িতে নেওয়া হয়।
সেখানে নেওয়া মাত্রই জাকারিয়া ও তার সহযোগীরা বৃদ্ধ মীর মো. আনোয়ার হোসেনকে মারধর, কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে তাঁকে জোরপূর্বক অন্য এক নারী আসামির সঙ্গে জিম্মি করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে স্বজনদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
পরে ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজন টাকা দেওয়ার কথা বলে একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে গিয়ে জিম্মিদশা থেকে তাকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ঘটনার চার দিন পর আজ রোববার ভুক্তভোগী মীর মো. আনোয়ার হোসেন মান্দা থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের ভিত্তিতে মান্দা থানার মামলা রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই মান্দা থানা-পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও নওগাঁর মান্দা ও রাজশাহীর মোহনপুর থানায় অন্তত তিনটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেলিং চক্রের অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।