ইদ্রিস আলী। চলচ্চিত্রে যিনি ইলিয়াস কাঞ্চন নামে জনপ্রিয়। একাধারে তিনি একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ও নাট্য অভিনেতা, মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সভাপতি।
গুণী
এই শিল্পী ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন
রয়েছেন। গত বছরের আগস্টে সেখানে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। ঝুঁকির কারণে
টিউমারের পুরো অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, সেটি ব্রেন
ক্যানসার।
দেড়
বছরেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরেছিলেন আপনজনদের কাছে কাঞ্চন। মাত্র ১০ দিনের সফরে
পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে প্রাণ খুলে সময় কাটিয়ে আবারও লন্ডনের পথে
পাড়ি জমালেন তিনি। এবার তার চিকিৎসায় শুরু হতে যাচ্ছে নতুন ধাপ।
বুধবার
(১২ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জামাতার সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এই
অভিনেতা। তাঁর ছেলে মিরাজুল মঈন জয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জয়
জানান, ‘বাবার
কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। এবার লন্ডনে ফিরে তাকে ইমিউনোথেরাপি দেয়া হবে।
চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা শুরু করবেন তিনি। বাবার জন্য সবার
কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।’
লন্ডনে
ফেরার আগের দিন মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের
বাড়িতেও যান তিনি। সেখানে গ্রামের মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং পূর্বপুরুষদের কবর
জিয়ারত করেন।
এবার
লন্ডনে ফিরে ইমিউনোথেরাপির নতুন ধাপ শুরু করবেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দীর্ঘ চিকিৎসার এই
লড়াইয়ে প্রিয় অভিনেতার পাশে থাকতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালে বসুন্ধরা সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন
তিনি। বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের নব্বইয়ের দশকের একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা। কাঞ্চন
৩০০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনীত বেদের মেয়ে জোছনা (১৯৮৯) ছবিটি
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত। তিনি
একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।
তার প্রথম স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুর পর তিনি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন
গড়ে তুলেন। সমাজসেবায় তার এই অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে দেশের দ্বিতীয়
সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া ২০২১ সালে তাঁকে আজীবন সম্মাননা
বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হয়।