নওগাঁর ধামইরহাটে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ড্রেনের ভেতরে এক নবজাতকের অর্ধ গলিত দেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর বারোটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে ড্রেনের ভেতর থেকে ওই দেহ উদ্ধার করে ধামইরহাট পৌরসভার পরিছন্নতাকর্মীরা। পরে তা থানা হেফাজতে নিয়ে যায় পুলিশ।
ধামইরহাট থানা পুলিশ ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ড্রেনের ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো নবজাতকের একটি দেহ দেখতে পেয়ে ধামইরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্তৃপক্ষকে মোবাইলে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দুপুরের দিকে ওই ড্রেনের ভেতরে কিছু দেখতে না পেয়ে ফিরে আসে।
পরে পৌরসভার পরিছন্নতা কর্মীরা এসে ড্রেনে নেমে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় অর্ধ গলিত ওই নবজাতকের দেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়। এসময় পুলিশ ডিএনএ টেস্টের জন্য ওই নবজাতকের দেহটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
ধামইরহাট পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী শুভ টুডু এবং শিপন সরেন জানান, সুপারভাইজারের নির্দেশে ড্রেন থেকে নবজাতকের দেহ উদ্ধারের জন্য আমরা কয়েকজন সেখানে যাই এবং ড্রেনের উপর ওষুধ এবং চায়ের দাকানসব অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা থাকার কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে হিমশিম খেতে হয়।
তারা আরও বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওইসব স্থাপনার নিচে ড্রেনের ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকের দেহটি হাসুয়া দিয়ে টেনে উদ্ধার করা হয়।
ধামইরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, স্থানীয় এক ব্যক্তি হটলাইনে ফোন দিয়ে আমাদেরকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর আমাদের একটি টিম সেখানে অভিযান পরিচালনা করে কিছু দেখতে না পেয়ে ফিরে আসে। পরে পৌরসভার কর্মীরা ওই নবজাতকের দেহ উদ্ধার করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিএনসি সেবা চালু নেই। শুধুমাত্র গর্ভবতী নারীদের নরমাল ডেলিভারি ছাড়া এধরনের কোন কাজ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা হয়না। ওই নবজাতকের দেহ কি করে এখানে এলো, এই বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানান।
সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকের দেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য জেলায় পাঠানোর হয়েছে।