ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
সেরাদেশ

ঝড়ে উপরে পড়েছে শতশত শাল গাছ,রাতের অন্ধকারে চুরি অভিযোগ বনবিভাগের বিরুদ্ধে



ঝড়ে উপরে পড়েছে শতশত শাল গাছ,রাতের অন্ধকারে চুরি অভিযোগ বনবিভাগের বিরুদ্ধে
ছবি: প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাটে ঝড়ে পড়ে যাওয়া অন্তত তিন শতাধিক শাল, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস গাছ দীর্ঘ দিন পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া রাতের অন্ধকারে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। লোকবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান শালবনে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে করে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, ঠিক তেমনি প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শালবন হুমকির মুখে পড়েছে। 

দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পত্নীতলা উপজেলার পাইক বান্দা বনবিট অঞ্চলের আওতায় ধামইরহাট ইউনিয়নের জয়জয়পুর এলাকায় ২৬৪ পয়েন্ট ১২ হেক্টর এলাকা নিয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠেছে এই শালবন।

এর পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে তাকালেই দেখা যায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পড়ে আছে শতশত গাছ। এগুলোর অধিকাংশ ডালপালা কাটা ও ছালবাকল তোলা অবস্থায় মাটিতে পড়ে থেকে নষ্ট হতে দেখা গেছে।  

বন বিভাগের সঠিক নজরদারীর অভাবে দুর্বৃত্তরা বনের ভিতর থেকে শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বাহিরে বিক্রি করেন।  এছাড়াও গুল আকারে কেটে রাখা শালগাছের গুলের বিভিন্ন অংশ স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গাছ খেকোচক্রের যোগসাজশে গভীর রাতে বাহিরে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

শুধু তাই নয়, বনের ভেতরে দিঘির পশ্চিম পাড়ে প্রায় অর্থ শতাধিক মৃত শালগাছ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এই শাল গাছ গুলো আড়াই বছর ধরে রোদ ও বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হলেও দেখার কেউ নেই বলে অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।

প্রাকৃতিক এই সম্পদকে রক্ষা ও পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে নজরদারি ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দুষ্কৃতকারী ও বন খেকোদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সুবিস্তৃত এ সম্পদকে এখনই রক্ষা করার প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বন বিভাগের কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটা সম্পর্ক রয়েছে। লোকবল সংকটের কথা বলে ঝরে পড়ে থাকা গাছ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখে বন বিভাগ। 

এরপর সুজুক বুঝে ধীরে ধীরে লোক চক্ষুর আড়ালে গভীর রাতে শুরু হয় গাছ চুরির মহোৎসব। শুধু তাই নয় এদের ছত্রছায়ায় শালবনে চলে নানান ধরনের অপকর্ম।

বন থেকে গাছ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বনবিট কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, গতবছর ঝড়ে আকাশমনি ইউক্যালিপটাস ও কিছু শাল গাছ উপড়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে কাটা সম্ভব হয়নি। 

আনিছুর আরও বলেন, সড়কের দু'পাশে যে গাছগুলো পড়ে গিয়েছিল সেগুলো শুধু কেটে পর্যটক ও স্থানীয়দের যাওয়া আসার জন্য পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও ঝরে পড়ে যাওয়া গাছের একটি তালিকা রাজশাহী বনবিভাগকে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, আলতাদীঘি শালবনের নানান অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। কিন্তু শালবনের ভেতরে গাছ পড়ে নষ্ট এবং চুরির বিষয়ে বন বিভাগ কিছুই জানায়নি।

সেরাদেশ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


ঝড়ে উপরে পড়েছে শতশত শাল গাছ,রাতের অন্ধকারে চুরি অভিযোগ বনবিভাগের বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর ধামইরহাটে ঝড়ে পড়ে যাওয়া অন্তত তিন শতাধিক শাল, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস গাছ দীর্ঘ দিন পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া রাতের অন্ধকারে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। লোকবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান শালবনে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে করে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, ঠিক তেমনি প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শালবন হুমকির মুখে পড়েছে। 

দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পত্নীতলা উপজেলার পাইক বান্দা বনবিট অঞ্চলের আওতায় ধামইরহাট ইউনিয়নের জয়জয়পুর এলাকায় ২৬৪ পয়েন্ট ১২ হেক্টর এলাকা নিয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠেছে এই শালবন।

এর পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে তাকালেই দেখা যায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পড়ে আছে শতশত গাছ। এগুলোর অধিকাংশ ডালপালা কাটা ও ছালবাকল তোলা অবস্থায় মাটিতে পড়ে থেকে নষ্ট হতে দেখা গেছে।  

বন বিভাগের সঠিক নজরদারীর অভাবে দুর্বৃত্তরা বনের ভিতর থেকে শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বাহিরে বিক্রি করেন।  এছাড়াও গুল আকারে কেটে রাখা শালগাছের গুলের বিভিন্ন অংশ স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গাছ খেকোচক্রের যোগসাজশে গভীর রাতে বাহিরে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

শুধু তাই নয়, বনের ভেতরে দিঘির পশ্চিম পাড়ে প্রায় অর্থ শতাধিক মৃত শালগাছ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এই শাল গাছ গুলো আড়াই বছর ধরে রোদ ও বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হলেও দেখার কেউ নেই বলে অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।

প্রাকৃতিক এই সম্পদকে রক্ষা ও পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে নজরদারি ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দুষ্কৃতকারী ও বন খেকোদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সুবিস্তৃত এ সম্পদকে এখনই রক্ষা করার প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বন বিভাগের কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটা সম্পর্ক রয়েছে। লোকবল সংকটের কথা বলে ঝরে পড়ে থাকা গাছ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখে বন বিভাগ। 

এরপর সুজুক বুঝে ধীরে ধীরে লোক চক্ষুর আড়ালে গভীর রাতে শুরু হয় গাছ চুরির মহোৎসব। শুধু তাই নয় এদের ছত্রছায়ায় শালবনে চলে নানান ধরনের অপকর্ম।

বন থেকে গাছ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বনবিট কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, গতবছর ঝড়ে আকাশমনি ইউক্যালিপটাস ও কিছু শাল গাছ উপড়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে কাটা সম্ভব হয়নি। 

আনিছুর আরও বলেন, সড়কের দু'পাশে যে গাছগুলো পড়ে গিয়েছিল সেগুলো শুধু কেটে পর্যটক ও স্থানীয়দের যাওয়া আসার জন্য পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও ঝরে পড়ে যাওয়া গাছের একটি তালিকা রাজশাহী বনবিভাগকে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, আলতাদীঘি শালবনের নানান অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। কিন্তু শালবনের ভেতরে গাছ পড়ে নষ্ট এবং চুরির বিষয়ে বন বিভাগ কিছুই জানায়নি।


সেরাদেশ

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম
সম্পাদক: আতোয়ার হোসেন
বার্তা সম্পাদক: তরিকুল ইসলাম।

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সেরাদেশ
ঝড়ে উপরে পড়েছে শতশত শাল গাছ,রাতের অন্ধকারে চুরি অভিযোগ বনবিভাগের বিরুদ্ধে
0:00 0:00
1.0x