ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
সেরাদেশ

দুর্গাপুরে কিশোরীকে সং*ঘবদ্ধ ধর্ষ*ণ করে ভিডিও ধারণের চেষ্টা



দুর্গাপুরে কিশোরীকে সং*ঘবদ্ধ ধর্ষ*ণ করে ভিডিও ধারণের চেষ্টা
ছবি:প্রতিকী

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় কিশোরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে কথিত ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে । অভিযুক্তরা হলো উপজেলার গাউকান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব দুবরাজপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র নাঈম মিয়া, ফরিদ মিয়ার পুত্র ঝুটন মিয়া,লাল মিয়ার পুত্র রুহুল আমিন ও একই গ্রামের ডেকোরেশন মিস্ত্রী আজিজুল ইসলাম। 

ঘটনার পর দিন সকালে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরী। গত ১৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত  রাত ৩টার দিকে এ লোমহর্ষক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন ঘুরে পরিবারের লোকজন গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্যগুলো জানান।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কিশোরী (১৭)। 

দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব দুবরাজপুর গ্রামের নাঈম (২০), ঝুটন (২১), রুহুল  আমিন (২৬) সহ একজনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করা হয়েছে। তবে ওই ধর্ষণ ঘটনার অজ্ঞাত নামা অভিযুক্ত হলেন ডেকোরেশন মিস্ত্রী আজিজুল ইসলাম (১৯)। তিনজন অভিযুক্ত আদালত আত্মসমর্পণ করে এখন জেলহাজতে রয়েছেন। তবে আজিজুল ইসলাম এখনো পলাতক রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরী  তার এক বান্ধবীর বড় ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে নাঈম মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে বিয়ের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা শেষে রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন কিশোরী। ঘটনার আগের দিন রাতেও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানেও ওই কিশোরী ছিলেন। নাঈমের বাবা সিরাজ মিয়া সম্পর্কে দাদা তিনি বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরদিন সিরাজ মিয়া তার ছেলে নাঈমকে বলেন কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে। নাঈম ওই কিশোরীর কাকা হন। কিশারীকে বাড়ি পৌছে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত নাঈমসহ অন্যরা তাকে সঙ্গে নিয়ে পূর্ব দুবরাজপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় নিয়ে যান।

সেখানে নাঈমের সঙ্গে থাকা অন্য যুবকদের মধ্যে আজিজুল ইসলাম কিশোরীকে জোরপূর্বক মুখে চাপ দিয়ে আটকে রাখেন। অন্য তিন জনের সহায়তায় নাঈম জোরপূর্বক যৌন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। পরে ঝুটন মিয়া গায়ের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে রুহুল আমিন দুই বাচ্চার বাবা মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পর্ন ভিডিও বানানোর চেষ্টা করেন।  

অজ্ঞাতনামা আসামী আজিজুল ডেকোরেশন মেকার কিশোরী মেয়ের হাত-পা ও মুখে চাপ দিয়ে ধরে রাখেন এবং যৌনকার্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। ভিডিও বানানোর এক পর্যায়ে তখন ওই কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে ওই যুবকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ সময় অভিযুক্তরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। মোবাইল ফোনটির আনুমানিক মূল্য ১২ হাজার টাকা। ফোনটিতে থাকা একটি সিমও রয়েছে। 

কিশোরীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জানান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কয়েকজনের কাছে ঘটনাটি জানানো হলেও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনার পর দিন আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিশোরী বাবা একজন দিনমজুর। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। কিশোরীর দুই বোন ও দুই ভাই রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং কোনো ধরনের আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন সচেতন মহল।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুর্গাপুর চৌকিতে অভিযুক্ত তিনজন আত্মসমর্পণ করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক নুরুল আলম ভূইয়া জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মানেশ সাহা, এডভোকেট পুলক বিশ্বাস। 

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করতে কাজ করছে। তিনজন আসামী জেলহাজতে রয়েছে। ওপর আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

সেরাদেশ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


দুর্গাপুরে কিশোরীকে সং*ঘবদ্ধ ধর্ষ*ণ করে ভিডিও ধারণের চেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় কিশোরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে কথিত ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে । অভিযুক্তরা হলো উপজেলার গাউকান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব দুবরাজপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র নাঈম মিয়া, ফরিদ মিয়ার পুত্র ঝুটন মিয়া,লাল মিয়ার পুত্র রুহুল আমিন ও একই গ্রামের ডেকোরেশন মিস্ত্রী আজিজুল ইসলাম। 

ঘটনার পর দিন সকালে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরী। গত ১৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত  রাত ৩টার দিকে এ লোমহর্ষক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন ঘুরে পরিবারের লোকজন গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্যগুলো জানান।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কিশোরী (১৭)। 

দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব দুবরাজপুর গ্রামের নাঈম (২০), ঝুটন (২১), রুহুল  আমিন (২৬) সহ একজনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করা হয়েছে। তবে ওই ধর্ষণ ঘটনার অজ্ঞাত নামা অভিযুক্ত হলেন ডেকোরেশন মিস্ত্রী আজিজুল ইসলাম (১৯)। তিনজন অভিযুক্ত আদালত আত্মসমর্পণ করে এখন জেলহাজতে রয়েছেন। তবে আজিজুল ইসলাম এখনো পলাতক রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরী  তার এক বান্ধবীর বড় ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে নাঈম মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে বিয়ের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা শেষে রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন কিশোরী। ঘটনার আগের দিন রাতেও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানেও ওই কিশোরী ছিলেন। নাঈমের বাবা সিরাজ মিয়া সম্পর্কে দাদা তিনি বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরদিন সিরাজ মিয়া তার ছেলে নাঈমকে বলেন কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে। নাঈম ওই কিশোরীর কাকা হন। কিশারীকে বাড়ি পৌছে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত নাঈমসহ অন্যরা তাকে সঙ্গে নিয়ে পূর্ব দুবরাজপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় নিয়ে যান।

সেখানে নাঈমের সঙ্গে থাকা অন্য যুবকদের মধ্যে আজিজুল ইসলাম কিশোরীকে জোরপূর্বক মুখে চাপ দিয়ে আটকে রাখেন। অন্য তিন জনের সহায়তায় নাঈম জোরপূর্বক যৌন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। পরে ঝুটন মিয়া গায়ের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে রুহুল আমিন দুই বাচ্চার বাবা মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পর্ন ভিডিও বানানোর চেষ্টা করেন।  

অজ্ঞাতনামা আসামী আজিজুল ডেকোরেশন মেকার কিশোরী মেয়ের হাত-পা ও মুখে চাপ দিয়ে ধরে রাখেন এবং যৌনকার্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। ভিডিও বানানোর এক পর্যায়ে তখন ওই কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে ওই যুবকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ সময় অভিযুক্তরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। মোবাইল ফোনটির আনুমানিক মূল্য ১২ হাজার টাকা। ফোনটিতে থাকা একটি সিমও রয়েছে। 

কিশোরীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জানান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কয়েকজনের কাছে ঘটনাটি জানানো হলেও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনার পর দিন আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিশোরী বাবা একজন দিনমজুর। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। কিশোরীর দুই বোন ও দুই ভাই রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং কোনো ধরনের আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন সচেতন মহল।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুর্গাপুর চৌকিতে অভিযুক্ত তিনজন আত্মসমর্পণ করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক নুরুল আলম ভূইয়া জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মানেশ সাহা, এডভোকেট পুলক বিশ্বাস। 

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করতে কাজ করছে। তিনজন আসামী জেলহাজতে রয়েছে। ওপর আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।


সেরাদেশ

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম
সম্পাদক: আতোয়ার হোসেন
বার্তা সম্পাদক: তরিকুল ইসলাম।

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সেরাদেশ
দুর্গাপুরে কিশোরীকে সং*ঘবদ্ধ ধর্ষ*ণ করে ভিডিও ধারণের চেষ্টা
0:00 0:00
1.0x