ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সেরাদেশ

৪১ বছরেও উন্নয়নের আলো পৌঁছেনি তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে



৪১ বছরেও উন্নয়নের আলো পৌঁছেনি তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে
ছবি: প্রতিনিধি

একসময় হাজারো কিশোরীর পদচারণায় মুখর থাকত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। স্বপ্ন ছিল—শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরা, বদলে যাবে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটিই আজ যেন অবহেলার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে। ভাঙা গেট, জরাজীর্ণ ভবন, চুঁইয়ে পড়া পানি, খসে পড়া চুন-সুরকি, শৌচাগার সংকট, জলাবদ্ধ মাঠ আর নানা অব্যবস্থাপনায় কষ্টে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন চিত্রই যেন বলে দিচ্ছে দীর্ঘ অবহেলার নির্মম গল্প। একসময় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী সংখ্যা এখন নেমে এসেছে মাত্র ২৬০ জনে। অর্থাৎ এক যুগের ব্যবধানে ঝরে পড়েছে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী। সঙ্গে সঙ্গে নিম্নমুখী হয়েছে শিক্ষার মানও।

বিশিষ্ট দানবীর জুনাব আলী ১৯৮৫ সালে প্রত্যন্ত নিমসার এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার পথ সুগম করতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় এ অঞ্চলে মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না বললেই চলে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার নতুন আশার আলো জ্বলে ওঠে। অভিভাবকরাও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন—তাদের মেয়েরাও একদিন শিক্ষিত হয়ে নিজেদের ও সমাজের ভাগ্য বদলাবে। কিন্তু সঙ্গে সেই স্বপ্নে যেন ধুলো জমেছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একসময় এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল এক হাজারেরও বেশি। ছিল ভালো ফলাফল ও সুনাম। একসময় শতভাগ পাসের গৌরবও ছিল প্রতিষ্ঠানটির। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট, জরাজীর্ণ ভবন, শৌচাগারের অপ্রতুলতা, লাইব্রেরি ও ক্যান্টিন না থাকা এবং বর্ষায় মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হতে থাকে। ধীরে ধীরে কমতে থাকে শিক্ষার্থী। বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬০ জনে।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ ও কার্যকর উদ্যোগ তেমন দেখা যায়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে পড়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আগ্রহ ও ফলাফলে।

জরাজীর্ণ ভবনে আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে প্রবেশের গ্রিলের গেটটি ভাঙা। মূল গেটের এক পাশও ভেঙে পড়ে আছে। ভাঙা অংশটি পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে আছে পানি। পুরোনো দোতলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে প্লাস্টার। কোথাও খসে পড়ছে চুন-সুরকি, কোথাও দেয়াল স্যাঁতসেঁতে। ভবনের বিভিন্ন অংশে পানি চুঁইয়ে পড়ার চিহ্ন স্পষ্ট। কোনো কোনো শ্রেণিকক্ষে নেই পাখা।

পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিরাজ করছে মলিন ও বিবর্ণ পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের জন্য যেখানে থাকার কথা ছিল নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আনন্দময় পরিবেশ, সেখানে জরাজীর্ণ অবকাঠামোই যেন তাদের প্রতিনিয়ত আতঙ্কিত করে তুলছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার, মারিয়া ইসলাম শারাপোভা ও জান্নাতুল নূর বলেন, “কখনো শ্রেণিকক্ষে পানি চুঁইয়ে পড়ে, আবার কখনো ছাদ বা দেয়াল থেকে চুন-সুরকি খসে পড়ে। ভূমিকম্প হলে আমরা খুব ভয় পাই। কখন যে ভবনটি ভেঙে পড়ে—সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। ওয়াশরুমের অবস্থাও ভালো নয়। আমাদের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি লাইব্রেরি ও ক্যান্টিন স্থাপন করা জরুরি।”

সুনাম হারিয়ে পিছিয়ে পড়ছে বিদ্যালয়
সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “মফস্বলের এই বিদ্যালয়টি একসময় ভালো সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু নানা সংকটে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যায়ও। বিদ্যালয়ে আবারও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।”

সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহীন আক্তার বলেন, “দানবীর জুনাব আলী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর এখানে সরকারের তেমন কোনো নজর পড়েনি। ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন ভবনের জন্য আমরা বারবার আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাড়া পাইনি।”

সংস্কারের আশ্বাস শিক্ষা কর্মকর্তার
বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, “বিদ্যালয়টির সংস্কারের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, কাজে হাত দিতে পারব। তবে নতুন ভবনের বিষয়টি সংসদ সদস্য মহোদয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে।”

৪১ বছরের প্রতিষ্ঠানের এখন বাঁচার আকুতি
একটি বিদ্যালয় শুধু ইট-পাথরের ভবন নয়—এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ এবং শত শত পরিবারের আশার ঠিকানা। ৪১ বছর আগে যে প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষার দুয়ার খুলেছিল, আজ সেই প্রতিষ্ঠানটিই যদি জরাজীর্ণতা ও অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে, তবে তা শুধু একটি বিদ্যালয়ের সংকট নয়—এটি একটি অঞ্চলের নারী শিক্ষার জন্যও বড় সতর্কবার্তা।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী এই বালিকা বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ ভবন দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ, নিরাপদ শৌচাগার, লাইব্রেরি, ক্যান্টিন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে এনে আবারও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হবে কিশোরীদের পদচারণায়—এমন প্রত্যাশাই এখন নিমসারবাসীর।

সেরাদেশ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


৪১ বছরেও উন্নয়নের আলো পৌঁছেনি তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একসময় হাজারো কিশোরীর পদচারণায় মুখর থাকত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। স্বপ্ন ছিল—শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরা, বদলে যাবে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটিই আজ যেন অবহেলার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে। ভাঙা গেট, জরাজীর্ণ ভবন, চুঁইয়ে পড়া পানি, খসে পড়া চুন-সুরকি, শৌচাগার সংকট, জলাবদ্ধ মাঠ আর নানা অব্যবস্থাপনায় কষ্টে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন চিত্রই যেন বলে দিচ্ছে দীর্ঘ অবহেলার নির্মম গল্প। একসময় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী সংখ্যা এখন নেমে এসেছে মাত্র ২৬০ জনে। অর্থাৎ এক যুগের ব্যবধানে ঝরে পড়েছে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী। সঙ্গে সঙ্গে নিম্নমুখী হয়েছে শিক্ষার মানও।

বিশিষ্ট দানবীর জুনাব আলী ১৯৮৫ সালে প্রত্যন্ত নিমসার এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার পথ সুগম করতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় এ অঞ্চলে মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না বললেই চলে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার নতুন আশার আলো জ্বলে ওঠে। অভিভাবকরাও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন—তাদের মেয়েরাও একদিন শিক্ষিত হয়ে নিজেদের ও সমাজের ভাগ্য বদলাবে। কিন্তু সঙ্গে সেই স্বপ্নে যেন ধুলো জমেছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একসময় এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল এক হাজারেরও বেশি। ছিল ভালো ফলাফল ও সুনাম। একসময় শতভাগ পাসের গৌরবও ছিল প্রতিষ্ঠানটির। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট, জরাজীর্ণ ভবন, শৌচাগারের অপ্রতুলতা, লাইব্রেরি ও ক্যান্টিন না থাকা এবং বর্ষায় মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হতে থাকে। ধীরে ধীরে কমতে থাকে শিক্ষার্থী। বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬০ জনে।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ ও কার্যকর উদ্যোগ তেমন দেখা যায়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে পড়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আগ্রহ ও ফলাফলে।

জরাজীর্ণ ভবনে আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে প্রবেশের গ্রিলের গেটটি ভাঙা। মূল গেটের এক পাশও ভেঙে পড়ে আছে। ভাঙা অংশটি পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে আছে পানি। পুরোনো দোতলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে প্লাস্টার। কোথাও খসে পড়ছে চুন-সুরকি, কোথাও দেয়াল স্যাঁতসেঁতে। ভবনের বিভিন্ন অংশে পানি চুঁইয়ে পড়ার চিহ্ন স্পষ্ট। কোনো কোনো শ্রেণিকক্ষে নেই পাখা।

পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিরাজ করছে মলিন ও বিবর্ণ পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের জন্য যেখানে থাকার কথা ছিল নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আনন্দময় পরিবেশ, সেখানে জরাজীর্ণ অবকাঠামোই যেন তাদের প্রতিনিয়ত আতঙ্কিত করে তুলছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার, মারিয়া ইসলাম শারাপোভা ও জান্নাতুল নূর বলেন, “কখনো শ্রেণিকক্ষে পানি চুঁইয়ে পড়ে, আবার কখনো ছাদ বা দেয়াল থেকে চুন-সুরকি খসে পড়ে। ভূমিকম্প হলে আমরা খুব ভয় পাই। কখন যে ভবনটি ভেঙে পড়ে—সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। ওয়াশরুমের অবস্থাও ভালো নয়। আমাদের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি লাইব্রেরি ও ক্যান্টিন স্থাপন করা জরুরি।”

সুনাম হারিয়ে পিছিয়ে পড়ছে বিদ্যালয়
সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “মফস্বলের এই বিদ্যালয়টি একসময় ভালো সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু নানা সংকটে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যায়ও। বিদ্যালয়ে আবারও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।”

সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহীন আক্তার বলেন, “দানবীর জুনাব আলী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর এখানে সরকারের তেমন কোনো নজর পড়েনি। ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন ভবনের জন্য আমরা বারবার আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাড়া পাইনি।”

সংস্কারের আশ্বাস শিক্ষা কর্মকর্তার
বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, “বিদ্যালয়টির সংস্কারের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, কাজে হাত দিতে পারব। তবে নতুন ভবনের বিষয়টি সংসদ সদস্য মহোদয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে।”

৪১ বছরের প্রতিষ্ঠানের এখন বাঁচার আকুতি
একটি বিদ্যালয় শুধু ইট-পাথরের ভবন নয়—এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ এবং শত শত পরিবারের আশার ঠিকানা। ৪১ বছর আগে যে প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষার দুয়ার খুলেছিল, আজ সেই প্রতিষ্ঠানটিই যদি জরাজীর্ণতা ও অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে, তবে তা শুধু একটি বিদ্যালয়ের সংকট নয়—এটি একটি অঞ্চলের নারী শিক্ষার জন্যও বড় সতর্কবার্তা।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী এই বালিকা বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ ভবন দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ, নিরাপদ শৌচাগার, লাইব্রেরি, ক্যান্টিন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে এনে আবারও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হবে কিশোরীদের পদচারণায়—এমন প্রত্যাশাই এখন নিমসারবাসীর।


সেরাদেশ

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম
সম্পাদক: আতোয়ার হোসেন
বার্তা সম্পাদক: তরিকুল ইসলাম।

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সেরাদেশ
৪১ বছরেও উন্নয়নের আলো পৌঁছেনি তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে
0:00 0:00
1.0x