নাটোরের গুরুদাসপুরে তিন নারীকে লাঞ্ছিত করার পর একটি কক্ষে আটকে রেখে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল কর্মী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে গুরুদাসপুর পৌরসভার গাড়িষাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার কয়েকটি ভিডিও রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযুক্ত যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার ভাই ইয়ারুল ইসলাম ওই গ্রামের আকবর আলী সরদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জিয়াউর রহমান জিয়ার ভাতিজিকে শারীরিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ‘কালো জাদু’ বা কুফরি কালাম করার অপবাদ দেওয়া হয় তিন নারীর বিরুদ্ধে। পরে দুই মধ্যবয়সী নারী ও এক তরুণীকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। একপর্যায়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী নারীদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাদের জোর করে বাড়ি থেকে তুলে এনে মারধর ও লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
এদিকে ইয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে সোমবার সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার দাবি, ওই নারীরা কবিরাজের মাধ্যমে তার মেয়ের ওপর ‘কুফরি কালাম’ করেছেন। এর ফলে তার মেয়ে শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিন নারীকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করার অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ইয়ারুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হান্নান বলেন, তিন নারীকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।